কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৯ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৩৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮০ জন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। তবে বর্তমানে হাসপাতালে ১৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জন। এ ছাড়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৪ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন এবং বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন, হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, তারাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী আলাল হোসেন বলেন, “জ্বর ও শরীরে ব্যথা অনুভব করার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসকেরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডেঙ্গু হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।”
এক রোগীর স্বজন আমিরুল ইসলাম বলেন, “ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। চিকিৎসকেরা নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এ রোগ থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশিকা ও নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের স্বজনদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে জ্বর হলে নিজের সিদ্ধান্তে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
কেকে/সাশ