রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকলেন তারেক রহমান      ● রিয়াদে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা      ● আইপিইউতে বাংলাদেশ নিয়ে ভুল ধারণা কেটেছে : স্পিকার      ● বিক্ষোভে টলছে মোদির গদি      ● রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯      ● বিক্ষোভ থেকে আটক অভিনেতা ইমরান খান      ● আবুধাবি টেস্ট : স্বস্তিতে দিন শেষ আফগানিস্তানের      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
এক হচ্ছে বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদের দলগুলো
রক্তিম রাজিব
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

যে শব্দ দিয়ে কাউকে ছোট করতে চায়, ইতিহাসে সেই শব্দই অনেক সময় প্রতিরোধের পতাকা হয়ে ওঠে। ভারতের তরুণেরা এবার তা-ই করে দেখিয়েছেন। ‘তেলাপোকা’ ডাক শুনে তারা মাথা নিচু করেননি, বরং শব্দটিকে মাথায় তুলে নিয়েছেন। আজ সেই অপমান করা শব্দ নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে অস্বস্তিকর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের নাম।

মে মাসের মাঝামাঝি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। বিবরণ অনুযায়ী তিনি কিছু কর্মী ও বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলেছিলেন। পরে ব্যাখ্যা এলেও  ‘তেলাপোকা’ তকমাটি তরুণ ভাষ্যকারদের মধ্যে থেকে যায়। এর জবাবে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে অনলাইনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ চালু করেন, নাম রাখেন শাসক দলের নামের শ্লেষ করে। 

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা সরকারের নিজস্ব অনুসারীর প্রায় দ্বিগুণ।

এই সংখ্যা কোনো রাজনৈতিক দলের অর্থ বা সংগঠনের জোরে আসেনি। এসেছে ক্ষোভ থেকে। সদস্য হওয়ার শর্ত ছিল ব্যঙ্গ করে ‘অলস’ ও ‘বেকার’ হওয়া। এটি ছিল প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের রসিক জবাব, আর একইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্ব, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের একটি মঞ্চ। একজন ছাত্রী বলেছেন, শুরুটা ঠাট্টা হলেও আন্দোলন যেদিকে যাচ্ছে সেটা তার ভালো লাগছে।

ঠাট্টা যে ঠাট্টায় থামবে না, জুনেই তা স্পষ্ট হয়। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে জন্তর মন্তরে সমাবেশ ডাকা হলো। সেখানে কয়েকশ তরুণ এসেছিলেন তেলাপোকার মুখোশ পরে, হাতে ফুল নিয়ে; স্কুলশিক্ষার্থীরাও এসেছিল বাবা-মায়ের সঙ্গে। দিপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেন হাতে আম্বেদকরের আত্মজীবনী নিয়ে। সমাবেশ ঘিরে মোতায়েন হয়েছিল প্রায় দুই হাজার পুলিশ। ২০ জুন পুলিশ অনুমতির মেয়াদ শেষ বলে জায়গা ছাড়তে বললে আন্দোলনকারীরা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান চলবে এবং মোবাইলের আলোতেই তা চলতে থাকে।

জুলাইয়ে ফল মিলল। প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র-বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। বিরোধী দলগুলো যা বছরের পর বছর পারেনি, কয়েক সপ্তাহের এই ডিজিটাল-জন্মা আন্দোলন তা করে দেখাল। যে সরকার সংসদে ও রাস্তায় বিরোধীদের পাত্তা দিত না, তার একজন মন্ত্রীকে সরতে হলো তরুণদের চাপে। এটাই ছিল সূচনা।

প্রশ্ন উঠতে পারে, ঠিক এই সময়ে কেন? উত্তর সম্ভবত জমে থাকা ক্ষোভের মধ্যে। একজন লেখক যেমন বলেছেন, এই আন্দোলন ব্যক্তিগত নানা অভিযোগকে একটি যৌথ দাবিতে বেঁধে দিয়েছে। ‘ভবিষ্যতে ন্যায্য সুযোগ’। তাই শুধু পরীক্ষার্থীরা নয়, অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকরাও এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নিয়েছেন। বেকারত্ব, ফাঁস হওয়া পরীক্ষা, চাকরির অনিশ্চয়তা, এসবের মধ্যে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে যখন শীর্ষ সাংবিধানিক পদাধিকারী ‘পরজীবী’ বলেন, তখন তা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে।

দ্য উইক-এর বিশ্লেষণ বলছে, সিজেপির উত্থান দেখিয়ে দিয়েছে ভারতীয় তরুণদের একটি বড় অংশ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে অশ্রুত, অর্থনৈতিকভাবে উদ্বিগ্ন এবং যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে। একই লেখা জানায়, অনুসারীদের বেশিরভাগ ১৭ থেকে ২৮ বছর বয়সী, অর্থাৎ ঠিক সেই প্রজন্ম যাদের ভোট ও ভবিষ্যৎ প্রতিটি রাজনৈতিক দল পেতে চায়।

শিক্ষামন্ত্রী সরে যাওয়ার পর আন্দোলন থেমে যেতে পারত। কিন্তু সরকারের হাতেই এলো আরও বড় ইস্যু : ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী খসড়া তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ গেছে, যা মোটামুটি ১৫ শতাংশ ভোটারের সমান। কমিশন বলছে, এতে ডুপ্লিকেট, মৃত ও ভুয়া ভোটার ছাঁটাই হচ্ছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে এর প্রভাব অনুপাতে বেশি পড়ছে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর, আর বিরোধীদের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে শাসক দলকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রা দেয়। প্রতিবেদনের অভিযোগ, তিন সদস্যের কমিশনের দুই কমিশনার ১০ মাসে এক ডজনেরও বেশিবার আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্ভবত তাদের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। কমিশন তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু যে সংস্থার কাজ হলো নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, তার ভেতরের মতভেদ নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠলে আস্থা টলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (৬২) অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব নেন এবং তার মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এ মাসে কেরালা সরকার ২০০৬ সালের কিছু দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের কাছে তাই প্রশ্নটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার।

সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকাও তাই আলোচনার কেন্দ্রে। মে মাসে আদালত যোগ্য ভোটারদের সুরক্ষার শর্তে কমিশনকে সারা দেশে প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে অনুমতি দিয়েছিল। পরে সরকার ও কমিশনকে সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা দিতে বলেছে, আগামী সপ্তাহে ফের শুনানি আছে। মেহতার মতে, আদালত আগের রায় উল্টে দিলে সংকট অনেকটা কমত, কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে আদালত ঐতিহাসিকভাবেই দ্বিধান্বিত। ফলে বড়জোর আংশিক প্রলেপের আশা করা যায়, যা মূল সংকট মেটাবে না।

আজ, ১০ অক্টোবর, আন্দোলন রাজধানীতে নেমেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। রাষ্ট্রের জবাব ছিল সামরিক ধাঁচের। দিল্লি পুলিশ দেরিতে আবেদনের কথা বলে অনুমতি দেয়নি, ৩১ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে বলে জানানো হয়েছে। দিপকে ও আরও দুই নেতাকে বিমান থেকে নামার আগেই আটক করার কথা জানিয়েছে সিজেপি, আর সারা দেশে অন্তত ১০ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন বলে দাবি করেছে। এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, পুলিশও মন্তব্য করেনি। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, যাতায়াত ও টেলিযোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ। জন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতিও মেলেনি, অথচ জুনে সেখানেই তা মিলেছিল।

সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছে, কিছু ট্রেন চালু রাখতে হবে এবং মেট্রো স্টেশনে সর্বাত্মক বন্ধ চলবে না। একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ঠেকাতে যে সরকারকে গোটা শহর বন্ধ করতে হয়, তার আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। ছাত্রনেত্রী নীহা বোরা যা বলেছেন, তার সারকথা : মানুষকে আটক করা যায়, আন্দোলনকে নয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতাপ ভানু মেহতা লিখেছেন, সিজেপি পরীক্ষা-ব্যবস্থা ও এসআইআরের প্রতি জনরোষকে একটিমাত্র আস্থার সংকটে মিলিয়ে দিয়েছে, যা শুধু সরকার নয়, নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টকেও গ্রাস করছে। তিনি নরসিমহা রাওয়ের সেই উপমা টেনেছেন, রাষ্ট্র হাতির মতো, কোনো সমস্যার ওপর যথেষ্ট ভার নিয়ে বসে থাকলে তা এক সময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু মেহতা এও দেখিয়েছেন, এই আন্দোলনের প্রধান শক্তি তার দাবির যুক্তিসঙ্গততা এবং সংযত অহিংসা। মহাসড়ক অবরোধ নয়, বরং সমাবেশের জায়গা না দিয়ে সরকারই অবরোধ তৈরি করছে। তার মতে, এসআইআরের সমালোচনা মেনে নিলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতেই আঘাত লাগবে, তাই সহজে সে পথে হাঁটবে না।

এই বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অতীতের নজির। কৃষক আন্দোলন জিতেছিল কারণ সেটি ছিল নির্দিষ্ট নীতির প্রশ্ন। এবারের সংকট সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক। তাই লড়াই কঠিনতর, কিন্তু বহু দূর গড়ানোর সম্ভাবনাও তত বেশি।

সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে প্রতিবাদ ক্রমশ বেড়েছে। ২ অক্টোবর মুম্বইয়ে সিজেপি নতুন কর্মসূচি শুরু করে। দিল্লিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী পরপর দুই দিন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক হন। মুম্বাইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি) ও এমএনএস ইভিএম-সাজে সজ্জিত সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেছে। বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোও এই আহ্বানে যুক্ত। মেহতার ভাষ্য, এই বহুস্বর এক অর্থে শক্তি, কারণ তা বোঝায় এটি একক কোনো দলের লড়াই নয়, বরং বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজ নিজ অবস্থান থেকে একই আস্থাহীনতা অনুভব করছে।

তবে নির্বাচনি চাপের চিত্র মিশ্র। মেহতার মতে উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যে সরকার দুর্বল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে উত্তরপ্রদেশের ওপর। সেখানে জিততে পারলে সরকার দাবি করবে তার জনসমর্থন ফিরেছে। সরকার আন্দোলনকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে দাগিয়ে দিতে পারে, নেপাল ও বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে। কিন্তু মেহতা সতর্ক করেছেন, ওই দুই দেশেই জনঅসন্তোষ প্রকৃত ছিল, আর আসল ঝুঁকি হলো সরকার নিজের প্রচারে বিশ্বাস করে বসে প্রকৃত ক্ষোভ উপেক্ষা করতে পারে।

দ্য উইক জানিয়েছে, সিজেপির ডিজিটাল চ্যানেলে বিধিনিষেধ আসার পরপরই রাহুল গান্ধী জেন-জি-র উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়েই এই তরুণ ডিজিটাল প্রজন্মের প্রভাব স্বীকার করে তাদের কাছে পৌঁছাতে বা তাদের ক্ষোভকে নিজের দিকে টানতে চাইছে, আর কিছু নেতা একে দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জুড়তেও চেয়েছেন। এই টানাপোড়েনই বলে দেয়, রাজনৈতিক মহল এই আন্দোলনকে আর উপেক্ষা করতে পারছে না। এক্স অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়া, সমাবেশ ঠেকানো, কোনো পদক্ষেপই আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি। এক নতুন প্রজন্ম দেখিয়ে দিচ্ছে, ক্ষমতার ভাষা তারা শুধু বোঝে না, তাকে উল্টে দিতেও জানে।

আন্দোলনের প্রকৃতিই এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। এর শুরু কোনো দলীয় নির্দেশে নয়, একটি অপমানের ব্যঙ্গাত্মক জবাবে। এর ভাষা মিম, ঠাট্টা, তেলাপোকার মুখোশ। এর হাতিয়ার ফুল, বই ও জাতীয় পতাকা। দিপকে সমর্থকদের বলেছেন, আসার সময় একটি বই ও জাতীয় পতাকা নিয়ে আসতে। এ এক নতুন ধরনের রাজনীতি, যেখানে ক্ষোভের ভাষা বিদ্রুপ আর প্রতিরোধের প্রতীক রসবোধ। বিরোধী দলগুলো পরে যুক্ত হয়েছে, নেতৃত্ব দেয়নি। শাসক শিবির সম্ভবত সেই কারণেই এই আন্দোলনকে ‘বিদেশি হাত’ বা রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাগিয়ে দিতে চাইবে, কিন্তু এমন ধরনের তকমা তরুণদের কাছে ইতোমধ্যে হাস্যকর।

তবে সৎ বিশ্লেষণে অন্য দৃষ্টিকোণও রাখা দরকার। দ্য উইকের মতে সিজেপি এখনো মূলত ডিজিটাল, অন্না হাজারের আন্দোলনের মতো বছরের পর বছর ধরে মাঠে গড়া সাংগঠনিক কাঠামো এর নেই। অন্ধ্রের একটি মতামত-নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমের দৃশ্যমানতা আর প্রকৃত জনমতের প্রতিনিধিত্ব এক নয়, আর সিজেপি সব তরুণের মেজাজ নাকি একটি সক্রিয় প্রান্তিক অংশ, সেই প্রশ্নও আছে। 

একই লেখা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল উল্লেখ করেছে, যেখানে চারটি কেন্দ্রীয় প্যানেল পদের তিনটিতে জিতেছে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ এবিভিপি। আরেকটি লেখায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, যা আন্দোলনের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয় জাগায়। আর শাসক শিবিরের দাবি, এসআইআর নির্বাচনি তালিকা শুদ্ধ করার বৈধ প্রচেষ্টা।

এই আপত্তিগুলো উড়িয়ে দেওয়ার নয়। আন্দোলনকে প্রমাণ করতে হবে, ডিজিটাল গর্জন বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে কি না।

তবু একটি সত্য থেকে যায় : তরুণদের একটি অংশ, সংখ্যায় যা-ই হোক, ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবি অসম্ভব বা বিপ্লবী নয়, তারা চায় স্বচ্ছ পরীক্ষা, বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা আর শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার। এই ন্যূনতম দাবির জবাবে যে রাষ্ট্র ব্যারিকেড, আটক আর যোগাযোগ-বিচ্ছিন্নতা বেছে নেয়, সে নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। সরকার হয়তো ভাবছে, সময় তার পক্ষে। কিন্তু ইতিহাস শেখায়, সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে আন্দোলনের গতিপথ বদলে যায়। আজ হোক বা কাল, সরকারকে এই প্রজন্মের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে, আর তার জন্য ঠাট্টার জবাবে ঠাট্টা নয়, দরকার আস্থা ফিরিয়ে আনার সদিচ্ছা।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিচ্ছিন্ন   প্রতিবাদ   দলগুলো  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close