প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজার মহানবমীতে তিনি রাজশাহী নগরীর ২৭০ বছরের পুরানো রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত রাজশাহী ও নাটোরের ১৩০০ আখচাষীর হাতে প্রণোদনা দেবেন এবং পরে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর সফল করতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) মাদ্রাসা মাঠ ও রাজশাহী ধর্মসভা পরিদর্শন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’
দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তার কাছে তুলে ধরা হবে। রাজশাহীবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করার দাবিও রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের পক্ষ থেকে।’
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সামনে রেখে এরইমধ্যে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, দেয়ালে রং করা, সড়ক সংস্কার ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
মাঠ পরিদর্শন করে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সিল্ক, কর্মসংস্থান ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। জনসভায় সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং দলের নেতাকর্মীসহ কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমান অবতরণের স্থান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যাতায়াতের পথ, রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউস ও জনসভাস্থলে পৃথক তিনস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি এবং যানজট নিরসনে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।’
কেকে/এমএ