মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● তারেক রহমানকে ঘিরে রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ, উন্নয়ন নিয়ে যত প্রত্যাশা      ● ডেঙ্গু কেড়ে নিল আরও চার প্রাণ      ● সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন, প্রজ্ঞাপন জারি      ● প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন      ● আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু      ● ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী       ● গণবিক্ষোভে অস্থির ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ২৪০০—ম্যাক্রোঁর কঠোর বার্তা      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ এএম

গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিতর্কে জড়ানোর পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ১৯ অক্টোবর পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগের দিনই তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

এর আগে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আসায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন এবং আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। তবু অভিযোগ ওঠামাত্র দায় নেওয়ার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল, এবং এটি অবশ্যই একটি ভালো দৃষ্টান্ত।

দৃষ্টান্ত টেকসই হয় সবার ক্ষেত্রে মানদণ্ড অভিন্ন থাকলে। জুনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এলাকায় তার পৈতৃক বাড়ি ও দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ করে সমালোচিত হন। তিনি সংসদে একে ‘মিরাকল’ বলে দাবি করলেও তার এই চাতুরী বুঝতে কারও বেগ পেতে হয় না। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনটি ইউনিয়নের নাম বদল করা হয়। আমাদের জানামতে মন্ত্রীকে পদ ছাড়তে হয়নি। কোথাও পদত্যাগ, কোথাও কেবল নাম বদল, এই ব্যবধান প্রশ্ন তোলে। কোন অনিয়মে কী ব্যবস্থা, তার প্রকাশ্য নীতি না থাকলে সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বলে প্রতীয়মান হবে।

ইশরাকের ঘটনার গভীরতর প্রশ্নটি মাদক নিয়ে। তার দাবি, ওই এলাকা মাদক বিতরণের কেন্দ্র, পুলিশ সেখানে যেতে চায় না এবং বৈধ অস্ত্রটি আত্মরক্ষার জন্য হাতে ছিল। এর আগে ওই এলাকায় অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করা হয়েছিল। 

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, বারবার অভিযানেও এলাকা মাদকমুক্ত হয় না, কারণ স্থায়ী নজরদারির মতো জনবল নেই। ইশরাকের সমালোচনার পরপরই অধিদপ্তরের অভিযানে অন্তত ১৪ জন আটক হওয়ায় বোঝা যায়, উদ্যোগ নিলে কাজ সম্ভব। প্রশ্ন হলো, এ তৎপরতা ধারাবাহিক নয় কেন। একজন জনপ্রতিনিধিকে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়, যদিও একটি ঘটনায় সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা প্রমাণিত হয় না।

তবু নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজ আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের তদারকি ও তাকে কার্যকর করা, নিজে অভিযান পরিচালনা করা নয়। অস্ত্র বৈধ হলেও অভিযানস্থলে তা প্রদর্শন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন জটিল করে। আর বিতর্কের দায় গণমাধ্যমের ওপর চাপানো যুক্তিসংগত নয়। ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রতিমন্ত্রী অস্ত্র হাতে অভিযানে গেলে সেটি জনস্বার্থের খবরই বটে। 

এ প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করছি সরকারি ও দলীয় পদধারীদের অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি অভিন্ন ও প্রকাশ্য নীতি ঘোষণা করতে হবে। রাড্ডার ঘটনার তদন্তের ফল ও বিচারের অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে, যাতে পদত্যাগ দায় এড়ানোর পথ না হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের জনবল, সমন্বয় ও নজরদারি বাড়াতে হবে এবং মূল সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে হবে। শুধু রাস্তার বিক্রেতাদের ধরে স্থায়ী সমাধান মিলবে না। মাদকবিরোধী অভিযান পেশাদার সংস্থার হাতে থাকবে। জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ও আচরণের সীমা স্পষ্ট করতে হবে । দায় নেওয়ার সাহস প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সবার প্রতি সমান আচরণ ছাড়া কয়েকটি পদত্যাগ জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close