সৌদি আরবে কর্মরত নিজেদের কিছু কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। দেশটির দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। একই দিনে সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায় দুজন নিহত হন বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবে অপ্রয়োজনীয় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পিগট বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন ঘটছে।
রয়টার্সকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের মিশনগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে সৌদি আরবের বাইরে অন্য মিশনগুলোর বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান মার্কিন স্থাপনায় হামলা শুরু করলে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন মিশন থেকে অনেক মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁদের কয়েকজনকে আবারও ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়।
ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বৃহত্তর এই সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর জানায়। এতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর আগে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় আঘাত হানার উদ্দেশ্যে আসা ড্রোন প্রতিহত করে। ওই ঘটনায় দুজন নিহত হন বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবে হুথিদের আরও হামলার আশঙ্কা জানিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এর আগে মার্চের শুরুর দিকে ইরান আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করলে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কার্যালয়ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ