জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শসার বাম্পার ফলনে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। অনুকূল পরিবেশ ও পরিচর্যায় ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় খুশি তারা। তবে সার ও কীটনাশকের বাড়তি দাম এবং প্রয়োজনের সময় সার পাওয়া নিয়ে ভোগান্তি তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার শসার ভালো ফলন হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি সবজি হওয়ায় অল্প সময়ে উৎপাদন পাওয়া যায় বলে শসা চাষে আগ্রহী হয়েছেন অনেক কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের আশা করছেন তারা।
স্থানীয় ঝালোরচর বাজারে প্রতি মণ শসা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা। তবে সার ও কীটনাশকের বাড়তি খরচ তাঁদের সম্ভাব্য মুনাফায় প্রভাব ফেলছে।
চর বাহাদুরাবাদ গ্রামের শসাচাষি বদিউজ্জামাল বলেন, এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। সারের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে বর্তমান বাজারদর থাকলে লোকসানের আশঙ্কা নেই, লাভের আশা করছেন তিনি।
আরেক কৃষক আল আমিন বলেন, প্রতিবছরই তিনি শসার আবাদ করেন। এবার ফলন ও দাম—দুটিই ভালো। এতে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে প্রয়োজনের সময় ঠিকমতো সার পাননি। পাশাপাশি কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
কৃষকদের দাবি, সার ও কীটনাশকের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকের মুনাফা বাড়বে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় শসার ফলন আশানুরূপ হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভালো ফলন ও বাজারদর থাকলেও পরিবহন ব্যয়, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কৃষকের প্রকৃত লাভ কমিয়ে দিতে পারে। এ জন্য বাজার তদারকি জোরদার, কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কৃষকদের প্রত্যাশা, সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে শসা চাষ থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন তারা।
কেকে/সাশ