বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। মুম্বাই পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা শহরের বান্দ্রায় অভিনেতা রণবীর কাপুরের বাড়ির আশপাশেও নজরদারি চালিয়েছিলেন। এতে আরও কয়েকজন বলিউড তারকা হামলাকারীদের সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আদালতে মুম্বাই পুলিশ জানায়, লরেন্স বিসনোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিল পণ্ডিত হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিসিপি রাজ তিলক রোশান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হরিয়ানায় জিতিন ও সমীর নামে আরও দুজনকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি মিললে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা ১০-এ পৌঁছাবে।
গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন রেহান ওরফে শুক্কা, ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন এবং ফুল সিংকে কোটা থেকে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার কথা রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছিলেন অভিনেতা সালমান খান। শহরে প্রবেশের পর তারা সালমানের বাসভবনের আশপাশে রেকিও করেন। তবে বাড়ির বাইরে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন তারা। পরে তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে—এমন ধারণা থেকে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মুম্বাইয়ে অবস্থানের এক মাসের মধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা আমির খান ও রণবীর সিংয়ের আবাসিক ভবনেও গিয়েছিলেন। তবে এসব তারকার ওপর নজরদারি চালানোর জন্য গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নাকি কৌতূহলবশত তারা সেখানে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে এক সূত্র জানায়, কয়েকজন তারকার আবাসিক ভবনে সন্দেহভাজনদের যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত কয়েকজন অভিনেতার বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিসিপি রাজ তিলক রোশান। পুরো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কার নির্দেশ ছিল, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া
কেকে/সাশ