দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে এ বিধিমালা করা হয়েছে। এটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর হবে।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ না করলে কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচলের অনুমতি পাবে না।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশাকে সব সময় সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে হবে। তবে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোরে এসব যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাধারণ সড়কে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হবে।
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ই-রিকশার আকারভেদে চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। এ ছাড়া ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ই-রিকশার নিবন্ধন পেতে আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে কর্তৃপক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি যানের ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যানের নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট বাতিল হবে।
বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকেও নিবন্ধন পেতে হলে বুয়েটের নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট অথবা নির্ধারিত গ্যারেজ ব্যবহার করতে হবে। এসব স্থানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, গতিসীমা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন, যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেকে/ এমএস