তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে ২ উইকেট হারিয়ে ১২৮ রান তুলেছে সফরকারীরা। এতে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৯৮ রানে।
চতুর্থ দিনের শুরুতে উইকেট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের। শেষ পর্যন্ত প্রথম সেশনে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে লাঞ্চে গেছে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না পাওয়া তাইজুল ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন। তার স্পিনে সাজঘরে ফেরেন জশুয়া ডি সিলভা। ৩৫ রান করে আউট হন তিনি। ৮৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এরপর আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬১ রান করা কাভেম হজ। ১১৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এর আগে, সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখনো তারা বাংলাদেশের চেয়ে ২৩ রানে পিছিয়ে ছিল।
তৃতীয় দিনে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান করে বাংলাদেশ। ৯ উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা না করে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় স্বাগতিকরা। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি।
দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে তাসকিন আহমেদ করেন ১২ রান।
এর আগে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করেছিল। ফলে হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংসে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
এতদিন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংসকে ছাড়িয়ে যান হৃদয়।
তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৪ রান করে জোমেল ওয়ারিকেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। এরপর একই বোলারের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন লিটন।
হৃদয়কে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ১৬ রান করে তার বিদায়ে ভাঙে ৪১ রানের জুটি। এরপর হাসান মাহমুদ ১ রান করে ওয়ারিকেনের বলে এলবিডব্লিউ হন।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের ২৬৮ রানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান ৫ রান করে ফেরেন। এরপর কেভিন উইকহ্যামের দুর্দান্ত ক্যাচে ১৬ রান করে বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
কেকে/ এমএস