বাঁশ পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এবং বহুমুখী ব্যবহারের একটি উদ্ভিদ। কাঠামোগত ব্যবহারের পাশাপাশি, প্রাচীনকাল থেকেই বাঁশ, বিশেষত এর কচি অঙ্কুর (কোড়ল), পাতা, এবং কখনও কখনও মূল বা শিকড়ও, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপদ্ধতি—যেমন আয়ুর্বেদ এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বাঁশের মূল বা শিকড়টি মাটির নিচে দৃঢ়ভাবে ছড়ানো থাকে এবং এটিকে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহরোধী) ও ডিটক্সিফাইং (বিষমুক্তকারী) গুণাবলীর জন্য ব্যবহার করা হতো।
বাঁশের মূল এবং এর সংশ্লিষ্ট উপাদানের স্বাস্থ্য উপকারিতা
যদিও বাঁশের কাণ্ড বা কচি কোড়লের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে, বাঁশের শিকড় সরাসরি খাদ্য বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য প্রধানত লোক-ঔষধের ওপর নির্ভরশীল। বাঁশের মূল এবং অন্যান্য অংশের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. কিডনি এবং মূত্রনালীর স্বাস্থ্য
ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা পদ্ধতিতে, কিডনি সংক্রান্ত রোগ এবং মূত্রনালীর বিভিন্ন সমস্যার উপশমে বাঁশের শিকড়ের নির্যাস ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে (Diuretic) সাহায্য করতে পারে।
২. প্রদাহ এবং ব্যথা উপশম
বাঁশের মূলে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের বিভিন্ন অংশে সৃষ্ট প্রদাহ এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতের ব্যথা বা গাঁটের ব্যথায় আরাম দিতে এর পেস্ট বাহ্যিকভাবে প্রয়োগের চল রয়েছে।
৩. ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগের প্রতিরোধক
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বাঁশের পাতা ও শিকড় থেকে তৈরি নির্যাস ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসায় বা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর কারণ হলো বাঁশে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
৪. শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি
বাঁশের অন্যান্য অংশ, যেমন—পাতা এবং এর মধ্যে জমে থাকা সিলিসিয়াস উপাদান (বাংশলোচন/তাবাশীর), কাশি, হাঁপানি (Asthma), এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় কফ দূরকারী (Expectoration) এবং শীতলকারী টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কেকে/ আরআই