বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করলেন কিয়ারা আদভানি। মা হওয়ার পর কাজের ধরন, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক সুস্থতা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি বলিউডে কাজের পরিবেশ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।
সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেন, “একজন শিল্পীর সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার জন্য যেমন পরিশ্রম জরুরি, তেমনি সুস্থ শরীর ও মনের জন্য প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত কাজের সময় এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ। এই প্রসঙ্গে তিনি দীপিকা পাড়ুকোনের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না।”
কিয়ারার মতে, পেশাগত সাফল্য আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য একে অপরের বিরোধী নয়; বরং এই দুয়ের সমন্বয়ই একজন মানুষকে দীর্ঘদিন ভালোভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
দীপিকা পাড়ুকোনকে ঘিরে আলোচিত আট ঘণ্টা কাজের বিতর্কের পটভূমিও উঠে আসে এই আলোচনায়। কয়েক মাস আগে খবর ছড়ায়, নির্দিষ্ট সময়ের কাজের শর্তে অনড় থাকায় দীপিকাকে একটি বড় বাজেটের ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তিনি আরেকটি বহুল আলোচিত ছবির সিকুয়াল থেকেও সরে দাঁড়ান। মা হওয়ার পর নতুন মায়েদের জন্য চলচ্চিত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তোলায় বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা জানান, “নারী অভিনেত্রী বলেই যদি তার দাবিকে বাড়াবাড়ি মনে করা হয়, তবু বাস্তবতা বদলায় না। বহু পুরুষ তারকা বছরের পর বছর সীমিত সময়সূচিতে কাজ করলেও সেটি কখনও বিতর্ক তৈরি করেনি। কিয়ারার মতে, এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর কাজের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।”
মাতৃত্ব ও শরীর নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়ে কিয়ারা বলেন, “মা হওয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। শরীরকে সম্মান করাই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রথম শর্ত।”
কিয়ারা মনে করেন, শিল্পে টিকে থাকতে হলে পরিবার, কাজ এবং নিজের যত্নের মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা প্রয়োজন। নির্মাতা ও প্রযোজকদের সহযোগিতা পেলে শিল্পীদের কর্মক্ষমতা আরও বাড়ে। তার বিশ্বাস, সুস্থ মন ও শরীরই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের আসল চাবিকাঠি; যা আগামী দিনে বলিউডের কাজের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে কিয়ারা সম্প্রতি ‘ওয়ার টু’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। সামনে তিনি প্যান ইন্ডিয়ান ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোনআপস’-এ যশ ও নয়নতারার সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন। টক্সিকে কিয়ারা অভিনীত চরিত্রের নাম নাদিয়া। ২০১৪ সালে ‘ফুগলি’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করা কিয়ারা প্রায় এক যুগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মূলধারার সফল নায়িকা হিসেবে। প্রেম, পারিবারিক গল্প, অ্যাকশন, কমার্শিয়াল ড্রামা সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল সাবলীল। কিন্তু টক্সিক যেন সেই পরিচিত বৃত্ত ভাঙার ঘোষণা। সদ্য প্রকাশ হওয়া ফার্স্ট লুক পোস্টারেই যা স্পষ্ট।
কেকে/এলএ