শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬      ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে গোপনে বৈঠক হয়, রয়টার্সকে ডা. শফিকুর      খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে      নির্বাচনের আগে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা, খোলা হচ্ছে প্যান্ডেল       হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তা এআই দিয়ে তৈরি নয়      জানাজা শেষে হেঁটে গন্তব্যে ফিরেছে মানুষ      স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিএনপির সামনে কঠিন পথ
সফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪৫ এএম আপডেট: ২৯.১২.২০২৫ ১২:২০ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে উজ্জীবিত বিএনপি। ভোটের মাঠেও এর প্রভাব পড়েছে। সারা দেশে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দলটি অবশ্য তারেক রহমানের দেশে ফেরার আগেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করে ফেলেছে। মিত্র ও সমমনাদের সঙ্গেও আসন বণ্টনের বিষয়ে সমঝোতা সম্পন্ন করেছে। যদিও কিছু কিছু আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। আবার মিত্র ও জোটসঙ্গীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলটির কিছু ঘাটতি আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেটাকে কৌশলগত ভুল বলে মনে করছেন তারা। এতে নির্বাচনের মাঠে কিছু ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির নির্বাচনি পরিকল্পনা যথেষ্ট সময়োপযোগী। কিন্তু আসন সমঝোতাসহ কিছু ক্ষেত্রে দলটির আরও পরিপক্বতার পরিচয় দেওয়া দরকার ছিল। বিশেষ করে দলটি তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র এলডিপিকে ধরে রাখতে পারেনি। গতকাল রোববার কর্নেল অলি আহমেদের দলটির জামায়াতের জোটে যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) কাছে টানতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।

সূত্র বলছে, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্নেল অলির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গেছেন। অন্যদিকে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল এনসিপিও নানা দিক ঘুরে জামায়াতের সঙ্গেই গিয়েছে। যদিও এতে ভাঙনের মুখে পড়েছে এনসিপি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্নেল অলি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপির এক সময়কার নীতিনির্ধারক। তার জামায়াত জোটে যাওয়াটা বিএনপির ইমেজের জন্য ইতিবাচক হবে না। অন্যদিকে এনসিপি যদি বিএনপির সঙ্গে থাকত তাতে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক মানুষের যে আবেগ, তা বিএনপির জন্য সহায়ক হতো। তরুণ ভোটার টানার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতো। তারা বলছেন, বিএনপি অবহেলায় কিছু মিত্রকে হারিয়েছে। এই দলগুলোর সমর্থক কম হলেও তাদের ইমেজ ভোটের মাঠে কাজে লাগাতে পারত বিএনপি। বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের আরও কাছে টানতে পারত।

মাঠে কঠিন লড়াই : বিএনপি দেশের অন্যতম বড় দল। ভোটের মাঠে তারা স্পষ্ট এগিয়ে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব অনেকটাই বদলে গেছে। যেখানে ভোটাররা মার্কার চেয়ে প্রার্থীর ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এ ছাড়া সংস্কার ইস্যুটিও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে। বিএনপি সংস্কারের পক্ষে থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে। যে বিষয়টিকে বিএনপির বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত। এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এনসিপি। সংস্কার নিয়ে এই দুই দলের মোটাদাগে কোনো পার্থক্য নেই। তারা বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণায় সংস্কার ইস্যু নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি-দখলবাজি ইস্যুটিও বিএনপির জন্য গলার কাঁটা হবে। দলটির স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিএনপির হাইকমান্ড এ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়েছে, তবু বিএনপিকে ঘায়েল করতে চাঁদাবাজির বিষয়কে সামনে আনছে প্রতিপক্ষ। যা জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে তারেক রহমানকে ফিরে পুরোনো বিতর্কিত বলয় সক্রিয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ বছরের লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির জনমুখী ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ নির্বাসনে থাকার ফলে তারেক রহমানও সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এ অবস্থায় যে কোনো ধরনের বিতর্ক বিএনপির জন্য ক্ষতিকর হবে বলে বিশ্লেষকদের মত। তারা বলছেন, স্বৈরাচারী শাসনামালে গুম-খুনসহ অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও অবৈধভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে ফিরতে পারেননি তারেক রহমান। যদিও লন্ডন থেকে শক্ত হাতে তিনি দলকে পরিচালনা করেছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির পামাপাশি গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এ অবস্থায় তারেক রহমানকে ঘিরে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট শুধু বিএনপিকে নয়, দেশকেও ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে।

মাঠ প্রশাসনে জামায়াতের আধিপত্য : ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জামায়াতপন্থিদের আধিপত্য দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনেও জামায়াতপন্থিদের অবস্থান দৃশ্যমান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পিছিয়ে বিএনপিপন্থিরা। যা নির্বাচনি মাঠে বিএনপির জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিএনপি   নির্বাচন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close