বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬      ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে গোপনে বৈঠক হয়, রয়টার্সকে ডা. শফিকুর      খালেদা জিয়ার জানাজায় মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে      নির্বাচনের আগে হচ্ছে না বিশ্ব ইজতেমা, খোলা হচ্ছে প্যান্ডেল       হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তা এআই দিয়ে তৈরি নয়      জানাজা শেষে হেঁটে গন্তব্যে ফিরেছে মানুষ      স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ফিরে দেখা ২০২৫
যে নক্ষত্ররা ঝরে গেল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০৬ এএম আপডেট: ২৯.১২.২০২৫ ১০:৫১ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

মহাকালের পৃষ্ঠা থেকে মুছে যাচ্ছে আরেকটি বছর। শেষ হতে চলল ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। বাতাসে এখন বিষাদের সুর। বছর শেষে এসে চলছে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ। বহুর সাফল্য ব্যর্থতা আর উত্থান-পতনের এ বছরে অনেক গুণীজনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যারা নিজ নিজ অঙ্গনে ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। বছর শেষের এ আয়োজনে থাকছে তাদের কথা, যাদের আমরা হারিয়েছি, সেই সব নক্ষত্রকে আরও একবার স্মরণ করি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ : বছরের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমর নায়ক, দেশের প্রথম সেনাপ্রধান ও মুক্তিযুদ্ধে ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) প্রয়াত হন। রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চলতি বছরে কে এম সফিউল্লাহকে ২ জানুয়ারি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কে এম সফিউল্লাহর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে। তিনি ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান : ২৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান মারা যান। আব্দুল্লাহ আল নোমান মরহুম মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে রাজনীতি করেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন জিয়াউর রহমানের সময়।

সন্জীদা খাতুন : বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব, সংগীতজ্ঞ, ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সন্জীদা খাতুন ২৫ মার্চ মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া এবং কিডনি রোগে ভুগছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন তিনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই সন্জীদা খাতুন সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক : সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক মারা যান ৪ মে। আবদুর রাজ্জাক একসময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। পরে এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেন। ২০১৯ সালে তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন।

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক ও লেখক মুস্তাফা জামান আব্বাসী ১০ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। ৮৭ বছর বয়সি এ গুণী বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ফোক মিউজিক রিসার্চ গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ২৫টির বেশি দেশে ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, নজরুলগীতি পরিবেশন করে বাংলাদেশের সংগীতকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বদরবারে।

বরেণ্য ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান : বরেণ্য ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান মারা যান ২০ জুলাই। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হামিদুজ্জামান খান ১৯৪৬ সালের ১৬ মার্চ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার সহশ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চারুকলা অনুষদ) থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি নেন। হামিদুজ্জামান খান ২০০৬ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক পান। তিনি বাংলা একাডেমি ফেলো ছিলেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

বদরুদ্দীন উমর : চলতি বছর অনন্তের পথে পাড়ি জমিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর। গত ৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় তার।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ ছিলেন। ষাটের দশকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আর ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে তার লেখা বইগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তার চিন্তা বুঝতে সহায়ক বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭), ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)Ñ তিনটি বই। এ বই লিখেই তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি শাসকদের অধীনে চাকরি পর্যন্ত করবেন না, এ মনোভাব পোষণ করে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক : চলতি বছরের ৩ অক্টোবর মারা যান ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। ভাষা আন্দোলন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ে গবেষণা করেছেন আহমদ রফিক। তার কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, গবেষণা মিলিয়ে লিখিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি দুই বাংলায় অগ্রগণ্য। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন আহমদ রফিক। আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। আহমদ রফিকের স্ত্রী মারা গেছেন ২০০৬ সালে। তিনি নিঃসন্তান।

অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ : শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ ৮ অক্টোবর মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষক ড. ইউনূস সরকারের নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়।

১৯৫৪ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুরে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ফতেহাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে, তিনি সোয়ানসির ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্টাডিজে এমএসসি (অর্থনীতি) ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

শহীদ ওসমান হাদি : গত ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মারা যান। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের কারণে শরিফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা হাদিকে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে শনাক্ত করে। ওই আসামি ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।

ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের উদ্যোগে তাকে গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার :  মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বীর উত্তম গত ২০ ডিসেম্বর মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি আবদুল করিম খন্দকার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এ কে খন্দকার নামে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন ও উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কেকে/ আরআই


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close