মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
হলফনামায় সম্পদে আলোচনায় নবীনরা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে প্রার্থীদের হলফনামা। এসব হলফনামায় উঠে এসেছে- রাজনীতিকদের সম্পদ ও আয়ের চিত্র। মোট সম্পদের পরিমাণে প্রবীণ রাজনীতিকরা এগিয়ে থাকলেও বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন অনেক নবীন ও তরুণ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ তরুণ নেতাদের হলফনামা হলফনামা পর্যালোচনার করলে দেখা যায়- দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, যা মূলত শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে অর্জিত। তারেক রহমানের নিজের নামে নগদ ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। এ ছাড়া তার নামে প্রায় ৯০ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে।

তার স্ত্রীর নামে নগদ ও ব্যাংকে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা রয়েছে। স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ১৯১ টাকা। তারেক রহমানের এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; আর স্ত্রীর এফডিআর রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। তিনি এ বছর (২০২৫-২৬) আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা এবং স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৩ টাকা।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা অনুযায়ী- কৃষি খাত ও অন্যান্য উৎস থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। তবে নগদ অর্থের হিসাবে তার হাতে রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। এ ছাড়া তার নামে ১১.৭৭ শতক জমির ওপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৭ লাখ টাকা। শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য বিনিয়োগ মিলিয়ে তার আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

ডা. শফিকুর রহমানের নামে দুই একর ১৭ শতক কৃষিজমি আছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে তিনি বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন। বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। তার নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। এ ছাড়া সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ হিসাবে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা দেখিয়েছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে দেখানো শফিক রহমানের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। এবং প্রদত্ত আয়কর ৩০ হাজার টাকা।

এদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বার্ষিক আয় তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের চেয়েও বেশি। নাহিদের হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। নাহিদ ইসলামের নিজের কাছে নগদ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অস্থাবর সম্পদের কথাও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। নাহিদ ইসলামের নিজের অর্জনকালীন পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলংকার এবং স্ত্রীর আছে অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকা মূল্যের গহনা। ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাব আছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমানো অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগ রয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

তবে মোট সম্পদের তথ্যে আলোচনায় রয়েছেন নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যবসা থেকে তার আয় ৬ লাখ টাকা। নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন উপহারের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।

এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতা কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) বছরে আয় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর মিলে ৫০ লাখ টাকার সম্পদ আছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হাসনাতের বর্তমানে ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে তার আয় নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখিয়েছেন ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯ টাকার। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার কোনো ঋণ নেই। পেশায় গৃহিণী স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই।

হলফনামার সম্পদবিবরণীতে হাসনাত উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আছে। ব্যাংকের দুটি হিসাবে আছে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। এর বাইরে তার ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আছে। ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ও ১ লাখ টাকার আসবাব আছে। তবে স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ নেই তার। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক তিনি।

তবে বার্ষিক আয়ের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন- এনসিপির আলোচিত নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি হলফনামায় বার্ষিক মোট আয় দেখিয়েছেন- চার লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান কনসালটেন্সি কাজ থেকে আয় দুই লাখ দুই হাজার টাকা এবং চাকরি থেকে আয় দুই লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছে নগদ ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে তার মোট প্রায় ১৮ হাজার টাকা জমা আছে। এ ছাড়া তার কাছে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ, ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৫ লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা ৬ লাখ ১৯ হাজার টাকার বেশি এবং ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ রয়েছে।

একইভাবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের হলফনামার তথ্যে উঠে এসেছে- তার নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা ভবন নেই। হাতে নগদ রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকারও কম। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রাখা অর্থের পরিমাণ এক লাখ টাকা। তার নামে ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যা তিনি দান হিসেবে পেয়েছেন। জমিটি অর্জনের সময় মূল্য ছিল মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টাকা, তবে বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ হলফনামায় জানিয়েছেন, তার হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭২ টাকা এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে মোট ১৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  হলফনামা   সম্পদ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close