কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৪ এপিবিএনের আওতাধীন মধুরছড়া পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় ৩ ও ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের এক নাম হয়ে উঠেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ক্যাম্পের চিহ্নিত একাধিক দুষ্কৃতকারী ও অপরাধী চক্রের সদস্যদের নিয়ে নিজস্ব একটি অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক। এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় রোহিঙ্গা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায়, অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক গোপনে বিক্রি এবং মোবাইল ডিউটি’র নামে অপরাধীদের ধরে এনে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো অহরহ ঘটনা ঘটাচ্ছেন তিনি।
ক্যাম্পের কয়েকজন সাধারণ রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, নানা মিথ্যা অজুহাতে তাদের ধরে এনে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব হলে তার অনুগত দুষ্কৃতকারীদের দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। যার কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা চরম ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিত সাধারণ রোহিঙ্গাদের ধরে এনে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী নগদ টাকা আদায় করে তারপর ছাড়া হয়। এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা মধুরছড়া পুলিশ ক্যাম্পে গেলে ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক তাদের সঙ্গে চরম অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অভিযোগকারী ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের দেখে নেওয়ার পাশাপাশি তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
ক্যাম্পজুড়ে এপিবিএনের এই কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে পুলিশ কর্মকর্তা ওমর ফারুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মধুরছড়া পুলিশ ক্যাম্পে প্রবেশ করলে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে অসদাচরণ করেন এবং এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন মোবাইল ফোনে জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এলএ