মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত, মজুতদারির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      ● মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পেল বাংলাদেশ      ● দীপু মনির ঘনিষ্ট সহচর মিনহাজ মান্নান ইমনের কবজায় ডিএসই      ● প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন      ● হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১০      ● ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২০৩৬      ● সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ, বিদায়ের শঙ্কা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সাক্ষাৎকার
কোনো দল নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই: ড. আতিক মুজাহিদ
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৩ পিএম আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ১:৪০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের বেকারত্ব, নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা সংকটকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ (আতিক মুজাহিদ)। এলাকার উন্নয়নে তার পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে— মাল্টি-স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা, জব ফেয়ার আয়োজন, বিদেশগামীদের জন্য ফ্যাসিলিটেশন সেবা, শিল্পকারখানা স্থাপন ও চরাঞ্চলের কৃষিপণ্যকে ঘিরে প্রসেসিং হাব গড়ে তোলা। 

পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, শিক্ষার প্রসার ও জাতীয় রাজনীতিতে ‘নয়া বন্দোবস্ত’ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন— খোলা কাগজকের নিজস্ব প্রতিবেদক শিপার মাহমুদ...

খোলা কাগজ : আপনার নির্বাচনি এলাকা কুড়িগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কী?

ড. আতিক মুজাহিদ : নির্বাচনের সময় আমি পরিকল্পনা দিয়েছিলাম— কুড়িগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি এবং স্বল্পমেয়াদি কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়। আমাদের এখানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে বেকারত্ব, নদীভাঙন। আর যোগাযোগব্যবস্থারও সমস্যা আছে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে যেন মানুষ ভালো স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখি, গরিব মানুষের প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগের খরচ বহন করতে পারে না। রোগ হলে পড়ে থাকে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ খায়, খেতে খেতে রোগ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত অনেক মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়, অনেকের অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাই স্বাস্থ্যসেবার মান্নোয়নে সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। 

আর আমাদের পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান ছিল এক নম্বর অগ্রাধিকার। এ জন্য আমি বলেছিলাম, একটা বহুমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র করব। আমাদের এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে জানে না সে কী করতে পারে, কীভাবে করতে পারে। একটা কেন্দ্রে এসে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে— তুমি কী পার, তোমার মধ্যে কী আছে, সেই অনুযায়ী তুমি কোন দিকে যাবে। কোন দিকে গেলে কী কাজ করতে হবে, সেটাও তাকে বোঝানো হবে।

পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে চাকরির মেলার আয়োজন করা, কিছু মানুষকে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া এবং যারা বিদেশ যেতে চায়, তাদের বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা সহজ করা; এগুলোও পরিকল্পনার মধ্যে ছিল। যাতে আমার এলাকার মানুষের আয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আসে।

আমাদের এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচন হওয়ার পর থেকেই আমি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছি, অভ্যন্তরীণভাবেও কথা বলেছি। কয়েকবার পরিদর্শনও হয়েছে। বিষয়টি এগোচ্ছে। এটা হলে আমাদের এলাকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের এখানে একটি বস্ত্রকল পড়ে আছে। প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। তারা প্রায় ২ বছর ঘুরিয়েও কোনো কাজ করেনি। পরে আমি সরকারকে বলেছি, এটা বাতিল করে নতুন কাউকে দেওয়া হোক। এখন নতুন একজনকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে নতুন কোনো কারখানা চালু হলে আরও মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

আমাদের চরগুলোকে কেন্দ্র করেও একটা পরিকল্পনা ছিল। চরে বাদাম হয়, ভুট্টা হয়, ডালসহ অনেক কিছুই হয়। আমি ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলছি, বাদাম কীভাবে রপ্তানি করা যায়। হাজার হাজার টন বাদাম হয়। আমরা যদি এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে পারি, তাহলে বড় একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে। একইসঙ্গে আলু নিয়ে কাজ করছি। আমরা আলু উৎপাদনে বড় জেলা। যদি এখানে কোনোভাবে বিনিয়োগকারীকে নিয়ে আসা যায়, তাহলে কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে। কর্মসংস্থান হলে বাকি অনেক কিছু ধীরে ধীরে এমনিতেই উন্নত হবে। কারণ অর্থনীতির সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। এটা ছিল আমার পরিকল্পনা এবং সেই অনুযায়ী আমি এগিয়ে যাচ্ছি।

খোলা কাগজ : আপনার এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় পিছিয়ে আছেন। এ নিয়ে কী ভাবছেন?

ড. আতিক মুজাহিদ : পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকার কারণ আছে। প্রথমত, অভিভাবক সচেতন নন। দ্বিতীয়ত, আর্থিক সক্ষমতা নেই। তৃতীয়ত, মোবাইলের প্রতি আসক্তি অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি খেলাধুলা করে না। ফলে তার কোনো লক্ষ্য নেই। কেউ তাকে নির্দেশনাও দেয় না যে— কী করতে হবে, কী করতে হবে না। এখানে এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের করণীয় আছে। আমি ইতোমধ্যে কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিকভাবে কিছু উদ্যোগও হাতে নিয়েছি।  

খোলা কাগজ : আপনি একজন সংসদ সদস্য, একইসঙ্গে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এই দুই দায়িত্ব কীভাবে সমন্বয় করেন?

ড. আতিক মুজাহিদ : খুবই কষ্ট হয়। আর আমরা যেহেতু নতুন দল, অনেক জায়গায় আমাদের দৌড়াতে হয়। অনেক মানুষ নতুন করে আমাদের দলে যুক্ত হয়েছে। নানা ধরনের মানুষ আছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান হিসেবে সারাদিন নানা ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের সমস্যা থাকে, সেগুলো দেখতে হয়, নির্দেশনা দিতে হয়। আবার সংসদে ভালো সংসদ সদস্য হতে গেলে পড়াশোনা করতে হয়। আইনপ্রণেতাদের ন্যূনতম বিষয়গুলো জানতে হয়। আমি দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য। এর পাশাপাশি মাঝে মাঝে আলোচনা অনুষ্ঠানেও কথা বলি। সবকিছু মিলিয়ে ভারসাম্য রাখা সত্যিই কঠিন। অনেক সময় হয়, অনেক সময় হয় না। তবে চেষ্টা করি যেন একটা মান বজায় রেখে রাজনীতি করা যায়। 

খোলা কাগজ :  এলাকায় কাজ করতে গিয়ে কখনো রাজনৈতিক বাধা কিংবা প্রশাসনিক অসহযোগিতা পেয়েছেন?  

ড. আতিক মুজাহিদ : বাধা তো আছেই। তবে আমি যত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলি, তাদের খুব পরিষ্কারভাবে বলি— আপনি যদি ন্যায্যভাবে কাজ করেন, তাহলে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আপনারা স্বচ্ছভাবে কাজ করেন। আমার কোনো অবৈধ দাবি নেই। কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব আমি মানব না। আর জনগণ একজন জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে তাদের নেতা বানিয়েছে। এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। আমরা আন্তরিকভাবে মানুষের জন্য কাজ করছি, কোনো দলের জন্য না। আমাদের এলাকা অনেক দিন ধরে বঞ্চিত। এখানে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমাদের মধ্যে এ বোধটা তৈরি করতে হবে যে— কুড়িগ্রামের পরিবর্তন আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে। 

খোলা কাগজ : এনসিপি যখন আত্মপ্রকাশ করে, তখন ‘নয়া বন্দোবস্তের’ কথা বলা হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাঠে আলোচনা আছে— জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে সেই নতুন বন্দোবস্তের ধারণা কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আপনি কী বলবেন?

ড. আতিক মুজাহিদ : ‘নতুন বন্দোবস্ত’ শব্দের অর্থ কী? নতুন কিছু। নতুন বন্দোবস্ত মানে নতুন একটা চুক্তি, নতুন একটা সমঝোতা। এর মানে হচ্ছে, বাংলাদেশকে আমরা আগের মতো দেখতে চাই না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধরন আগের মতো দেখতে চাই না। আগের মতো বলতে কী বোঝায়? চাঁদাবাজি, দখলদারি, যে ক্ষমতায় আসবে সে আধিপত্য বিস্তার করবে, তার দলের লোক দুর্নীতি করবে, দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাবে, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে দমন করা হবে, পেশাদারত্ব থাকবে না। এর বিপরীত রাজনীতিই হলো ‘নতুন বন্দোবস্ত’। 

এ ছাড়া আমরা সবাই মিলে জুলাই সনদের জন্য একসঙ্গে বসেছি। এটা একটা নতুন চুক্তি, একটা নতুন সমঝোতা। আপনি দেখবেন— রাষ্ট্র গঠনের পরও অনেক সময় এমন সুযোগ আসে না। এখন একটা মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ একাত্তরেও একটা সুযোগ পেয়েছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা এক হয়েছিলাম। প্রত্যাশা ছিল— নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু সেটা হয়নি। চব্বিশে আবার একটা সুযোগ পেয়েছি। আমরা সবাই মিলে একমত হলাম— রাষ্ট্রকে আর আগের মতো চালাব না। বিরোধী দলকে দমন করব না। সব মানুষের সঙ্গে রাজনীতি করব। এ ধারণাটাই হলো— নতুন বন্দোবস্ত।

খোলা কাগজ : চব্বিশ পরবর্তী সময়ে এখন কেমন রাজনীতি দেখতে চান? 

ড. আতিক মুজাহিদ : সুসম্পর্ক এবং সৌহার্দ্যরে রাজনীতি। এ ছাড়া দেশ যখন স্থিতিশীল থাকে, তখন বহিঃশত্রু আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারে না। দেশ অস্থিতিশীল হলে বহিঃশত্রু এখান থেকে নিজেদের স্বার্থ নেওয়ার সুযোগ পায়, দর-কষাকষি করতে পারে। ফলে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে আমাদের এক থাকতে হবে। শাসনের ক্ষেত্রে আপনার সঙ্গে আমার দ্বিমত থাকবে। আপনি সুশাসন দিতে পারছেন না, আমি আপনার সমালোচনা করব। কিন্তু এই রাষ্ট্রকে অন্য কেউ ধ্বংস করতে চাইলে সেটা হতে দেব না। এ রাজনীতিটা যদি কেউ না বোঝে, তাহলে আজীবন দলকানা হবে। আজীবন একটা দলকে সমর্থন করবে, কিন্তু বাংলাদেশ এগোবে না। আমি বলি— দলকানা না হয়ে রাষ্ট্রকানা হন। রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে হবে।

খোলা কাগজ : আগামী পাঁচ বছরে এনসিপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতদূর নিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন?

ড. আতিক মুজাহিদ : এখনকার তরুণ প্রজন্ম— ‘জেনারেশন জেড’ থেকে ‘জেনারেশন আলফা’য় খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ চলে এসেছে। রাজনৈতিক স্বয়ংক্রিয়তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতের সরকারগুলো কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেবে, জনগণ কীভাবে এর সঙ্গে থাকবে— এগুলো সামনে আসছে। 

অন্যদিকে বিএনপি বা জামায়াতের অনেক সিনিয়র নেতা এখনো স্মার্ট ফোন ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে পৃথিবী কোথায় চলে গেছে, সেটাও ঠিকমতো জানেন না। অনেকেই পুরোনো ধ্যান-ধারণার রাজনীতিতে আছেন। কেউ সত্তরের, কেউ ষাটের, কেউ আশির দশকের প্রজন্ম। তাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়াও অনেকটা সেই সময়ের। 
এদিকে আমাদের প্রজন্মও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, পরের প্রজন্ম আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। এ বিশাল ব্যবধানের মধ্যে তরুণরা দেখবে— কারা তাদের ভাষা বোঝে, কারা তাদের সঙ্গে আছে। তারা তাদের কাছেই যাবে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তন আসবে। নতুন রাজনীতির জায়গাটা কারা নিতে পারবে, সেটা তখন আরও পরিষ্কার হবে। 

খোলা কাগজ : আপনি বাংলাদেশকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

ড. আতিক মুজাহিদ : আমি বাংলাদেশকে একটা আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। যে রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। পৃথিবীর যেখানে যাবে, সম্মানের সঙ্গে যাবে। আমি বলেছিলাম— আমার প্রধানমন্ত্রী যেখানে যাবে, তাকে কেউ অপমান করলে সবার আগে আমি দাঁড়াব। কারণ তিনি আমার প্রধানমন্ত্রী। যতক্ষণ তিনি প্রধানমন্ত্রী, আমি এ জায়গাটা ধরে রাখব। আমি এমন একটা রাষ্ট্র চাই, যে রাষ্ট্র সম্মান নিয়ে চলে, কারও সামনে মাথা নিচু করে না।

দ্বিতীয়ত, আমরা সব জায়গায় সক্ষমতা অর্জন করতে চাই। সামরিকভাবে বলেন, আর্থিকভাবে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে বলেন— সব জায়গায়। আর বাংলাদেশ কেন সক্ষম হবে না? আমাদের খাদ্যের সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু ব্যবস্থাপনায়। আপনি যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, আমরা পৃথিবীর অনেক জায়গায় খাদ্য পাঠাতে পারি। আমাদের তেল-গ্যাসসহ অনেক সম্পদ আল্লাহ দিয়েছেন। আমরা কেন সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব না? দরকার শুধু সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া। আর দেশকে ভালোবাসতে হবে। নিজের স্বার্থের আগে সবাইকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

খোলা কাগজ : আপনার নির্বাচনি এলাকা কুড়িগ্রামকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

ড. আতিক মুজাহিদ : কুড়িগ্রাম নিয়েও আমি একই কথা বলছি। আমি কুড়িগ্রামে আর ‘মঙ্গা’ দেখতে চাই না। কুড়িগ্রামকে এমন একটি আত্মমর্যাদাপূর্ণ জেলা হিসেবে দেখতে চাই। অন্য কোনো জেলার মানুষ যেন কুড়িগ্রামকে ‘মঙ্গার জেলা’ বলতে না পারে। কেউ যেন কুড়িগ্রামের মানুষকে ‘মঙ্গা’ এলাকার লোক বলে ছোট করতে না পারে। আমি আমার এলাকার ন্যায্য বাজেট চাই। যদি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বাজেটে আমাদের অংশ খুব কম থাকে, তাহলে আমি আমার এলাকার ন্যায্য অংশ চাইব। এটা আমার সম্মানের বিষয়, আমার এলাকার মানুষের অধিকার। আমরা কুড়িগ্রামের নদীভাঙনের শিকার মানুষ। তারাও মানুষ। তাদেরও একই সম্মান দিতে হবে। 

আরেকটা হলো— কুড়িগ্রামে আমি এমন কিছু করতে চাই, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, মানুষ যেন কুড়িগ্রাম দেখতে আসে। আমি মালয়েশিয়ায় থাকতাম, সেখানে একেকটা রাজ্যের একেক ধরনের বৈশিষ্ট্য আছে। কুড়িগ্রামকেও যদি একটা আলাদা স্বয়ংসম্পূর্ণ অঞ্চলের মতো চিন্তা করেন, তাহলে এখানে কী কী থাকা সম্ভব? এখানে খাবার থাকবে, ভালো স্কুল থাকবে, ভালো হাসপাতাল থাকবে, নদীপথ থাকবে, মাছ থাকবে— সবকিছুই আছে। আমাদের চরগুলোকে যদি আমরা সিলিকন ভ্যালির মতো প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেখানে পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র করতে পারি, সেখান থেকে ছেলেমেয়েরা আয় করতে পারবে— আমি আগামীর কুড়িগ্রামকে এভাবেই দেখতে চাই।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close