রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মাঠে সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা, ধীর প্রস্তুতি বিএনপির      ছয় মাসে নিখোঁজ সাড়ে তিন হাজার শিশু      গ্যাসের দাম নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান পেট্রোবাংলার      রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকে দিলো বিএনপির স্থায়ী কমিটি      হঠাৎ ঢাকাসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি পুলিশের      প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান ২৯ অক্টোবর      দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন
মাঠে সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা, ধীর প্রস্তুতি বিএনপির
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনি তৎপরতা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন, গণসংযোগ ও ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করায় জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। 

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সরকার পরিচালনার ব্যস্ততা, প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়া এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপি এখনো পুরোপুরি নির্বাচনি ছন্দে ফিরতে পারেনি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, প্রার্থী ঘোষণা হলেই বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনতে সক্ষম হবে।

ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, পথসভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। 

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা থাকলেও প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে সাজানো হবে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নন। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।

তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী মনে করেন, দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নির্বাচনি প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে এবং ভোটারদের কাছে দলীয় অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সহজ হবে। অন্যদিকে, কিছু নেতাকর্মীর মতে, প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবাই মেনে নেবেন। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির আনুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা নির্বাচনি মাঠে নতুন গতি আনবে। প্রার্থী ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা আরও সংগঠিত হয়ে মাঠে নামবেন। নির্বাচনি প্রচারণা তখন নতুন মাত্রা পাবে।

অন্যদিকে নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করেছে জামায়াত। দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনের জন্য আগেই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এর ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, পথসভা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকতে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মিসভা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত জনসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দলটি স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে এ প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শুধু জনপ্রিয় প্রার্থী নয়, ওয়ার্ডভিত্তিক শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা, ভোটার যোগাযোগ এবং নির্বাচনের দিন বুথ পরিচালনার সক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে। যে দল আগেভাগে এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে, নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় তারাই তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি দ্রুত মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করে সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদার করতে পারে, তাহলে বর্তমান দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত আগেভাগে মাঠে থাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পাচ্ছে বলেও তাদের অভিমত।

বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক স্থানীয় নেতার অভিযোগ, রাজধানীর অনেক ওয়ার্ডে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। কোথাও কোথাও বছরের পর বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিয়মিত সাংগঠনিক তৎপরতা, কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাক্সিক্ষত গতি আসছে না। বিশেষ করে সম্ভাব্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা যাচাই, বুথভিত্তিক কমিটি গঠন, এজেন্ট প্রস্তুত, ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং নির্বাচনি প্রচারণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করছেন তৃণমূলের নেতারা।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় অনেক জায়গায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়নেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় জনবল, প্রচার-প্রচারণা এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে একই ওয়ার্ডে একাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর সক্রিয়তা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভক্তির সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থকগোষ্ঠী নিয়ে পৃথকভাবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে একক নেতৃত্বের পরিবর্তে বিভিন্ন বলয় তৈরি হচ্ছে, যা দলীয় ঐক্য ও সমন্বিত নির্বাচনি প্রস্তুতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। অনেকের মতে, দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই নীরব প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

এ ছাড়া কয়েকটি ওয়ার্ডে বিতর্কিত ব্যক্তি কিংবা দীর্ঘদিন সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পরিবর্তে নতুন বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এসব বিষয়ে সাংগঠনিক অসন্তোষ দ্রুত নিরসন করা না গেলে মাঠপর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম এবং নির্বাচনি প্রস্তুতির ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ মহানগরীর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয়ভাবে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় মাঠপর্যায়ে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। এতে কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। একই ওয়ার্ডে একাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী নিজ নিজ বলয় তৈরি করে আলাদাভাবে কাজ করায় বিভক্তি আরও প্রকট হচ্ছে। অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নিজেদের মূল্যায়িত মনে করছেন না, ফলে তাদের একটি অংশ আগের মতো সক্রিয় নেই।

তিনি বলেন, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনাও কাক্সিক্ষত গতিতে এগোচ্ছে না। কেন্দ্র দ্রুত মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে সাংগঠনিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করলে নির্বাচনের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিপক্ষ দলগুলো অনেক আগ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো অনেক বিষয়ে অপেক্ষা করেই আছি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রার্থী ঘোষণার পর সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি প্রচারণায় নামবেন। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলও নির্বাচনি প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও তাদের প্রাথমিক মেয়র প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, বর্তমানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অধিক সময় ব্যয় করছেন। এর প্রভাব তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও পড়ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক তৎপরতা, প্রয়োজনে কমিটি পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির গতি আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই সুযোগে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ, কর্মী সংগঠন এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগেভাগে মাঠে নামানো এবং নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। মনোনয়নের বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। ঢাকা মহানগর উত্তরে দলের ৭১টি রাজনৈতিক ওয়ার্ড এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া ২৬টি থানার কমিটিও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। রিয়াজ বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ওয়ার্ড থেকে থানা পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে নির্বাচনের ঘোষণা এলেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১নং সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হওয়ায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। অধিকাংশ এলাকাতেই চার থেকে পাঁচজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে দল যাকেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগছে, কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দল দ্রুতই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তার আশা, খুব শিগগিরই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ হবে।

আনোয়ারুজ্জামান আরও বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তৈরি হয়েছে, ফলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সব ইউনিটেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। তাই সাংগঠনিক দিক থেকে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হবে না। যারা নির্বাচনে কাজ করতে আগ্রহী, তারা আগে থেকেই দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে সবাই সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

কেকে/এলএ



আরও সংবাদ   বিষয়:  সিটি নির্বাচন   বিএনপি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close