বগুড়ার শেরপুরে জেঁকে বসা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কবলে পড়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের বীজতলা। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় দেখা দিয়েছে ‘কোল্ড ইনজুরি’ বা চারা পোড়া রোগ। এতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বীজতলার চারাগুলো হলদে বর্ণ ধারণ করেছে। অনেক জায়গায় চারা বৃদ্ধি থমকে গেছে এবং ডগা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের সাধের বীজতলা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও প্রকৃতির বিরূপ আবহাওয়ার কাছে তারা নিরুপায়।
কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন জানান, “এবার সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে বোরো চাষের পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুযায়ী বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত শীতে চারাগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে। এখন আবাদ করা নিয়েই বিপদে পড়েছি।”
একই এলাকার আরেক কৃষক ফারুক ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিদিন সকালে চারা রক্ষায় ওষুধ স্প্রে করছি, কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। চারা বৃদ্ধি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আসন্ন শৈত্যপ্রবাহের খবর শুনে আরও বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।”
এদিকে, বিরূপ আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বীজতলাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে বাঁচাতে সন্ধ্যায় বীজতলা পানি দিয়ে পূর্ণ করে দিতে হবে এবং পরদিন সকালে তা বের করে দিতে হবে। চারা রক্ষায় সালফারজাতীয় ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘন কুয়াশা থাকলে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার কথাও বলা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭৭ হেক্টর জমি। তবে চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় বীজতলার ক্ষতিও বেশি হচ্ছে। দ্রুত আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নত না হলে বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন এই অঞ্চলের চাষিরা।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা খাতুন বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের বীজতলার চারা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কিছু কিছু জায়গায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ বা চারা পোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবং চারা সংকট যেন না হয় সেজন্য আগে থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/এলএ