বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের মোট ১ হাজার ৮৭২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা যায়, উপজেলার সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় মোট ১৬ হাজার ৬৬৭ হেক্টরের বেশি ফসলি জমির মধ্যে ৯৫৫ হেক্টর জমি দুর্যোগের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ এবং ৮৩২ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সমতল এলাকার মোট ৪ হাজার ৩৭৪ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৫৪৭ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়। সমতলের ৩২ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ২০ হেক্টর প্লাবিত হয়, যার মধ্যে ৫ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৮.৪০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩৯০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২ হাজার ৪৬ হেক্টর আউশ জমির মধ্যে ১৬৭ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। ২ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৪১.৭৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৯৮ জন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির। ১ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমির মধ্যে ২৩৪ হেক্টর আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৪৭ হেক্টর সবজি জমি সম্পূর্ণ এবং ৫৮.৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ১ হাজার ২৩০ জন সবজি চাষি চরম লোকসানে পড়েছেন।
এছাড়া সমতলের ১২১ হেক্টর ফলবাগান ও ৫ হেক্টর অন্যান্য ফসলি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পাহাড়ি ও জুম চাষের ক্ষেত্রে মোট ১২ হাজা র২৯৩ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৪০৮ হেক্টর জমি দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় কোনো জমি সম্পূর্ণ বিনষ্ট না হলেও ১১.৭৫ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জুমের ৩০০ হেক্টর আক্রান্ত জমির মধ্যে ২.৫০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০ হেক্টর আদা ও ২৮ হেক্টর হলুদের জমি আক্রান্ত হয়ে যথাক্রমে ১.৮৫ হেক্টর ও ২.৪০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ৫০ হেক্টর পাহাড়ি ফলবাগানের মধ্যে ৫ হেক্টর বাগান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোছা. শাকিলা আক্তার বলেন, ‘আকস্মিক বন্যায় কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।’
কেকে/এমএ