শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, শুরু ১৯ মার্চ      সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী      একসঙ্গে ৯৯ বিচারককে বদলি—কারা গেলেন কোথায়?      গুলশান-ধানমন্ডিসহ ঢাকার পাঁচ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ      হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩৪৩      উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন : ইসি      
খেত খামার
ফরিদপুরে পাটকাঠিতে সম্ভাবনা, বাড়তি আয় কৃষকের
সনৎ চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

‘সোনালি আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাটের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ফরিদপুরের কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবছরই চাষ হচ্ছে উৎকৃষ্ট মানের পাট। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও এখন বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা।

একসময় অবহেলিত ও মূলত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পাটকাঠি বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পাট চাষ হয়। পাট কাটার পর আঁশ সংগ্রহের পাশাপাশি পাটকাঠিও সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের বাড়ি ও মাঠ থেকে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মান ও শুকনো অবস্থাভেদে বর্তমানে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। জমির পাশে, পুকুরপাড়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা হতো। অনেকে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া ঘরের মাচা, সবজির মাচা ও বেড়াসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন তারা।

পার্শ্ববর্তী জেলাতেও যাচ্ছে পাটকাঠি

ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা পাটকাঠি শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসায়ীরা এগুলো মাগুরা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। পাটকাঠি সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের তুলনায় পাটকাঠির চাহিদা বেড়েছে। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। শুকনো ও ভালো মানের পাটকাঠির চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষকরাও তা সংরক্ষণে আগ্রহী হচ্ছেন।

এক পাটকাঠি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে পাটকাঠি অনেকটা অবহেলিত ছিল। এখন এর চাহিদা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ দরে পাটকাঠি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। চাহিদা থাকায় কৃষকরাও এটি বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।’

কৃষকের মুখে বাড়তি আয়ের কথা

পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাটের আঁশ বিক্রির পর পাটকাঠি থেকেও আয় হওয়ায় উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে। এতে পাটচাষে তাদের আগ্রহও বাড়ছে।

বোয়ালমারী উপজেলার ফেলান নগর গ্রামের কৃষক হালিম বলেন, ‘পাট থেকে আঁশ বিক্রি করার পর পাটকাঠিগুলো আগে তেমন দাম পেতাম না। এখন ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাওয়ায় পাটকাঠি থেকেও বাড়তি আয় হচ্ছে।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক হাবিব মোল্লা বলেন, ‘আগে পাটকাঠি দিয়ে রান্নার জ্বালানি, ঘরের মাচা কিংবা বেড়ার কাজে ব্যবহার করতাম। এখন বিক্রি করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাই পাট কাটার পর পাটকাঠি যত্ন করে শুকিয়ে রাখি।’

বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, পাটকাঠি বর্তমানে শুধু জ্বালানি বা ঘরোয়া কাজে সীমাবদ্ধ নেই। পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি কার্বনজাত উপাদান বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কালি ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া পানবরজ, সবজির মাচা, ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন কৃষিকাজেও পাটকাঠি ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য একটি মূল্যবান উপজাত পণ্যে পরিণত হয়েছে।’

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, পাটকাঠির বাড়তি ব্যবহার ও বাজার তৈরি হওয়া কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন। তবে পাটকাঠি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, ‘পাট আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়েছে। কৃষকরা পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে পাটচাষিদের আয় আরও বাড়তে পারে।’

এতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পাটচাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  ফরিদপুর   পাটকাঠিতে সম্ভাবনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close