কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকার শাহী জাতের পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান সোনা। মাত্র ৩২ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত তিনি ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। বারোমাসি এ পেঁপে চাষে তার সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত মশিউর রহমান মাস্টারের ছেলে সাইদুর রহমান সোনা (৪৭)। একসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই তরুণ উদ্যোক্তা বর্তমানে কৃষিকাজে মনোযোগ দিয়েছেন। তার ১০ বিঘা জমির পেঁপে বাগান এখন এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। একটি গাছ থেকে গড়ে প্রায় এক মণ পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাইদুর রহমান জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে শাহী জাতের পাকা পেঁপের ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বীজ কিনতে তার খরচ হয় ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হলেও চলতি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে তার আয় দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, ‘সবাই যখন প্রচলিত সবজি চাষ করছিল, তখন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নিই। বীজ কেনা ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে শুরুতে পকেট থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ভাবিনি, এই পেঁপে চাষ এত ভালো ফল দেবে।’
স্থানীয় কৃষকরা যখন প্রচলিত শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত, তখন ভিন্ন চিন্তা থেকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে ঝুঁকেন সাইদুর। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে তোলেন ১০ বিঘার বাগান। বর্তমানে বাগানজুড়ে গাছে গাছে পেঁপে ধরেছে।
দৌলতপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দৌলতপুরের মাটি এমনিতেই উর্বর। এর সঙ্গে কৃষকরা সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সাইদুর রহমান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
দৌলতখালী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সিদ্দীক বলেন, একবার গাছ লাগিয়ে একাধিকবার ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকদের মধ্যে মানিকগঞ্জের শাহী জাতের পেঁপের চাহিদা বাড়ছে। সাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এ জাতের পেঁপে চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, শাহী জাতের পেঁপে উচ্চ ফলনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। প্রতিটি গাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ কেজির বেশি পেঁপে পাওয়া যায়। একবার গাছ লাগানোর পর একাধিকবার ফলন পাওয়া এ জাতের অন্যতম সুবিধা।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘সাইদুর রহমানের সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি আধুনিক কৃষিরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তার দেখানো পথে অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কৃষিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।’
কেকে/সাশ