নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন ভালো হলেও আশানুরূপ লাভ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালপুরে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ফলে ফলনও হয়েছে আশাব্যঞ্জক। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পারায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো মানের পাটের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে লাভের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো পাট কাটা না গেলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন বলেন, “মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সময়মতো পাট কাটতে পারছি না।”
চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। কিন্তু পাট কাটতে দেরি হলে আঁশের মান খারাপ হয়ে যাবে।
দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে সহজেই শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়েছে।’’
একই কথা বলেন দুয়ারিয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি। তিনি বলেন, “সময়মতো পাট কাটতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’
পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, “বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও আঁশের মান ঠিক না থাকলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন না। তাই সময়মতো পাট কাটা ও জাগ দেওয়া জরুরি।’’
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, পাটের উৎপাদন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে লালপুরের কৃষকদের কাছে।
কেকে/এলএ