নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে ঐক্যের বার্তা দেখা গেছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করতে সবাই একত্রিত হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার বাকরইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীরা একত্রে অংশগ্রহণ করেন।
নেতারা বলেন, দল ও দেশের স্বার্থে এখন ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তারা জানান, অতীতের সব ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে সাধারণ মানুষের ভোট ও সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সভায় বক্তারা আরও বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।
পত্নীতলার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তারা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিএনপির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, এই ঐক্য ও সংগঠনের শক্তিতেই পত্নীতলায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সামিনা পারভিন পলি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হক সিরি, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও রমজান আলী সরদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নজিপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মামুন হোসেন, বিএনপি নেতা আ. সালাম, মিজানুর রহমান, এম. আর. মোস্তফা, বেলাল হোসেন, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মরিয়ম বেগম শেফা, পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী মাহফুজা খাতুন, ছাত্রদল নেতা রাকিবুল হাসানসহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে আমরা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবো।”
সামসুজ্জোহা খান জোহা বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেক নেতা আছেন যারা এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, কিন্তু নমিনেশন একটাই। সবাইকে তো দিতে পারবে না। আমাকে দিয়েছে, আমি পেয়েছি, কিন্তু আমি পাইনি—আমরা সবাই পেয়েছি। আমাদের মধ্যে কোন বিভক্তি নেই। আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবো, এটা নাজিবুল্লাহ গ্রুপ, এটা সাফি গ্রুপ, জোহা গ্রুপ—এসব বাদ দিন। আজ থেকে আমরা সবাই বিএনপি। সবাই মিলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবেন। যারা ওরকম করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ থেকে আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে এক হলাম।”
কেকে/এলএ