সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২৭ জন      একদিনের সফরে বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী      রাজধানীতে জলাবদ্ধতা      
দেশজুড়ে
প্রার্থীতা ফিরে পেতে পারেন ড. হামিদুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১১ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মামলা–সংক্রান্ত জটিলতার জেরে কক্সবাজার–২ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণার পর ওই রাতেই জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।”

ড. আযাদ আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, “যে মামলাটি দেখিয়ে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।”

জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতার দাবি, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও আমি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ড. আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানান, উল্লেখিত মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যার বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাচ্ছি।

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

ড. আযাদের আইনজীবীর দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে সাজাভোগ সম্পন্ন করেছেন এবং তার ভোগ করা সাজা দুই বছরেরও কম।

২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

যেহেতু মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিলাধীন, সেক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিলে উপস্থাপন করা হলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, “তফসিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৫ থেকে ১১ জানুয়ারি) ড. হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচন কমিশনে আপিল দাখিল করতে পারবেন। আপিল গ্রহণ করা হলে বিধি অনুযায়ী তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আপিল নিষ্পত্তির সময়সূচি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

কেকে/এলএ




আরও সংবাদ   বিষয়:  কক্সবাজার   প্রার্থীতা   ড. হামিদুর রহমান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close