সিরাজগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের সৎকারে বাঁধা দেওয়ায় মরদেহ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করেছে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া মহল্লার মৃত গণেশ বনিকের স্ত্রী মিনা বনিক অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. আরিফ।
মৃত মিনা বনিকের ছেলে সন্তোষ বনিক বলেন, “আমার মা রবিবার রাত ৮টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ৮টায় আমরা তাকে সৎকারের জন্য ঘোষগাতী মহাশ্মশানে নিয়ে গেলে শ্মাশানের চাবি বাবলু ভৌমিকের নিকট থাকায় তিনি চাবি না দিয়ে সৎকারে বাঁধা দেন। তিনি আমাদের বলেছেন, উল্লাপাড়া মহাশ্মাশানে নিয়ে সৎকার করতে। পরে আমরা এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসে মরদেহটি ঐ শ্মাশানে নিয়ে এসে সৎকার সম্পন্ন করি।”
ঝিকিড়া মহল্লার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মাশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মাশান নামে পরিচিত ছিল। সেখানে উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায় তাদের মৃতদের সৎকার করত। কিন্তু পাঁচ বছর আগে এটি ঘোষগাতী মহাশ্মাশান নামে নাম পরিবর্তন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সরকারি বিভিন্ন অনুদান আসলেও তা কমিটির লোকজন, বিশেষ করে বাবলু ভৌমিক, আত্মসাৎ করেছে। উল্লাপাড়া মহাশ্মাশান নামে সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সৎকার করার অনুমতি দিতে হবে। কমিটিতে প্রত্যেক গ্রাম থেকে একজন করে সদস্য নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছে সম্প্রদায়।”
বাবলু ভৌমিক জানান, “ঘোষগাতী মহাশ্মাশানের দেখভাল করার জন্য কোনও লোকজন নেই। শ্মাশানের চাবি আমার কাছে থাকে। মৃত মিনা বনিকের ছেলেরা সকালে উল্লাপাড়া পৌর শ্মাশান নাম উল্লেখ করে মাইকিং করেছে। যেহেতু উল্লাপাড়া পৌর শ্মাশান নামে কোনো শ্মাশান নেই, তাই চাবি দেওয়া হয়নি। পরে ইউএনওর প্রতিনিধি রাকিব ফোন করলে চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ঘোষগাতী মহাশ্মশানে তার সৎকার চলছে।”
কেকে/এলএ