কাউনিয়া ও পীরগাছা দুই উপজেলা মিলে গঠিত রংপুর-৪ সংসদীয় আসনে এবার ভোট যুদ্ধে লড়াই হবে নবীন ও প্রবীণ প্রার্থীদের মধ্যে। নির্বাচনি এলাকার হাট, মাঠ ও গ্রামে পাড়া-মহল্লায় এই লড়াই নিয়ে জোর আলোচনা চলেছে।
এবারের ভোটে বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব ও উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাবেক এমপি মরহুম আলহাজ্ব রহিম উদ্দিনের পুত্র এবং কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এমদাদুল হক ভরসা প্রার্থী হয়েছেন। তিনি এর আগে ধানের শীষ প্রতীকে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন।
প্রথমবার এমপি পদে লড়ছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, পীরগাছা উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান। তিনি পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শাহ্ মো. মিজানুর রহমানের পুত্র।
নবীন প্রার্থী হিসেবে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও এলাকার উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোটের মাঠে রয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক এবং ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক।
ভোট, সমর্থন ও দোয়া কামনায় প্রতিটি প্রার্থী তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে হাট-বাজার, মাঠঘাট ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীবাহিনী ভোটারদের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। নারী-পুরুষ সকল ভোটারের কাছে ধানের শীষ মার্কায় ভোট চাওয়ায় ব্যস্ত।
জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান লাঙ্গল মার্কার মঙ্গল কামনায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন শান্তি, উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নিরসন এবং হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণ।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের নবীন প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি মার্কা নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
তবে ভোটাররা এখনো সরাসরি তাদের মনোভাব প্রকাশ করছেন না। খোপাতি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রার্থীরা যতই প্রচারণা চালাক, ভোটের হিসাব-নিকাশ ফেব্রুয়ারির শুরুতে হবে।” আর হারাগাছের ফজলুল হক মন্তব্য করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় এবার রংপুর-৪ আসনে হবে নবীন-প্রবীনের ত্রিমুখী লড়াই। অপেক্ষা শুধু ১২ ফেব্রুয়ারি।”
কেকে/এলএ