কুমিল্লা বুড়িচংয়ের চাঁনগাছা গ্রামের পরিশ্রমী যুবক মনির হোসেন ইউটিউব দেখে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ শুরু করেন। প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করা টমেটো গত চার মাসে কোটি টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। এখনো গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ফল ঝুলছে, যা প্রতিদিন স্থানীয় বাজার ও পাইকারদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।
মনির হোসেন জানান, “চলতি বছরের জুনের প্রথম দিকে গ্রামের আশপাশের ৬টি প্লটে ভারতীয় ‘মঙ্গল রাজা’ ও ‘শাহু’ প্রজাতির চারা রোপণ করেন। দুই মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং টমেটোতে থোকা থোকা ফল ধরে। প্রতিদিন গড়ে এক টনের বেশি টমেটো দেশের অন্যতম পাইকারী নিমসার বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রথম দিকে কেজি প্রতি দেড়শ টাকা দাম পেয়েছেন, বর্তমানে শীত মৌসুমে দাম কমে একশ টাকা হয়েছে।”
মনিরের বাগানে ২৬-২৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতি বিঘার উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ লাখ টাকা। চাষকৃত টমেটোর মোট বিক্রয় প্রায় ১৫০ টনের বেশি। তিনি আশা করছেন শীতকালেও পর্যাপ্ত ফলন হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী ওমর ফারুক বলেন, “গ্রীষ্মকালীন ফসল হলেও এই ফলন শীত মৌসুমেও থাকবে। কৃষি বিভাগ মনির হোসেনকে ৫০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউজ বরাদ্দ দিয়েছে, বাজার সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।”
মনির হোসেন এখন আরও কিছুদিন ভালো মূল্য পাবার আশা করছেন, কারণ শীতকালে স্থানীয় কৃষকদের টমেটো বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে দাম কিছুটা কমে যেতে পারে।
কেকে/এলএ