পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের ব্যস্ততম সড়কে গতিরোধক না থাকায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ মুক্ত বাংলা চত্বরের সামনে সড়কে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে চারজন নারী শিক্ষার্থী আহত হন।
আহত চারজনই পবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান অনুষদের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন রিফা তাহসিন, মীম, নুজহাত ও দিয়া। দুর্ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়।
পরে রিফা তাহসিন ও মীমের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে রিফা তাহসিনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। অন্যদিকে নুজহাত ও দিয়া পবিপ্রবি হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তিন মাস আগে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হলেও এখনো প্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন করা হয়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষী চালকদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতিরোধক স্থাপনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবুল বাশার খান বলেন, “ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী হাতে পেলেই দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আজকের রাতের মধ্যেই যেসব স্থানে সড়ক মার্কিং প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করা হবে।”
উল্লেখ্য, মুক্ত বাংলা চত্বর পবিপ্রবির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম গোলচত্বর। আগে এখানে গতিরোধক থাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত ছিল। সড়ক সংস্কারের সময় সেগুলো অপসারণের পর একাধিকবার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
কেকে/ আরআই