মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নির্বাচন-গণভোট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ এএম আপডেট: ০৯.০১.২০২৬ ১২:২১ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাতিল, আপিল আবেদন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নির্বাচন ও গণভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শঙ্কা ও অভিযোগ সামনে আসছে। 

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক বৈঠক, কঠোর ভাষায় দেওয়া সতর্কবার্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন- সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চাপের আবহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১২২টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এ নিয়ে মোট আপিল দাঁড়াল ১৬৪টি। ইসিতে দ্বিতীয় দিনে ১২২টি ও আগের দিন ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন গ্রহণ। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে গণভোট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অঞ্চলভিত্তিকভাবে এসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রবল শঙ্কা রয়েছে। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘হতাশাজনক’। যদি আবারও কোনো পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তবে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এখনো রাস্তায় বের হলে মানুষ প্রশ্ন করে- নির্বাচন আদৌ হবে কি না। নির্বাচন নিয়ে এ অনিশ্চয়তা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা। তারা এখনো জনগণকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারেনি।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরদিনই চিহ্নিত আসামির হাতে আমাদের সহযোদ্ধা হাদি শহিদ হয়েছেন। এতে করে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে। দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নেই, পরিস্থিতিও আগের মতোই রয়ে গেছে।’

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাচ্ছেন। এনএসআইয়ের প্রধান একটি দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে পার্টি অফিসে সাক্ষাৎ করেছেন এটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রয়োজনে সাক্ষাৎ হতে পারে, কিন্তু পার্টি অফিসে গিয়ে বৈঠক নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করছে।’

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘যদি দেখি নির্বাচনকে একতরফা করার প্লট সাজানো হচ্ছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হওয়ার কথা ছিল ভোটাধিকার। গত তিনটি নির্বাচনে জনগণ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন মানুষ কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে চেষ্টা চালাব। তবে প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে আমরা প্রস্তুত।’

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এ. এম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ঋণখেলাফি, মামলার তথ্য গোপন বা সম্পদের তথ্য গোপনের মতো মৌলিক কোন বিষয় থাকলে প্রাার্থতা বাতিল করা ঠিকাছে। কিন্তু সামান্য কারণে একতৃতীয়াংশের মনোনয়ন বাতিল করা নির্বাচনি পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনা থেকে গণভোটের বিষয়টা হারিয়ে গেছে। আমরা এ আশঙ্কা বারবার করেছিলাম। আমাদের আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হলো। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় আনার এবং গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরাও শোকাহত। কিন্তু এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রশাসন বিশেষ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটা একপক্ষীয় নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচন-গণভোট   উদ্বেগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close