গত কয়েকদিনের টানা কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষদের। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছিল প্রতিদিনের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক ও নির্মাণশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
তীব্র শীতের কারণে ভোরের দিকে কাজে বের হতে না পারায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ দৈনিক আয়ের বড় অংশ হারিয়েছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার অনেকেই ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে গেছেন জীবিকার তাগিদে।
তবে আজ বুধবার সকালে জয়পুরহাটের কালাইয়ে সূর্যের দেখা মেলায় স্বস্তি ফিরেছে তাদের জীবনে। রোদ উঠতেই শীতের প্রকোপ কিছুটা কমে আসে। এতে করে কাজে ফিরতে পারছেন শ্রমজীবীরা, রাস্তাঘাটে ফিরেছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য।
ট্রলি চালক আব্দুল কাদের বলেন, “কয়দিন ঠিকমতো ট্রলি চালাতে পারিনি। ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হয়ে যেত। কিন্তু, নিরুপায় হয়ে চালায়। আমার ট্রলি চালানোর ওপরে সংসার নির্ভর। আজ রোদ উঠায় অনেক স্বস্তি লাগছে।”
শ্রমিক ছাইদুর, আব্দুল বাছেদ, মুনির, লেদু, রাজ্জাকুল ও ছামছুল জানান, “শীতের কারণে আমাদের ৩০ জনের দলের অনেকে অসুস্থ হওয়ার ফলে দলে ১৫ জন ঠেকেছিলো। তাই ঠিকমতো কাজে যেতে পারিনি কয়েকদিন। আজ রোদ থাকায় কাজে বের হতে পেরেছি, কিছু আয় হবে।”
তারা আরো জানান, গত বছর আলুর দাম কম থাকায় ক্ষতির মুখে পরতে হয়েছে। বিশেষ করে সে কারনেই শীত অপেক্ষা করে মাঠে নামতে হয়েছে। এ বছর যেন আলু নিয়ে ক্ষতির মুখে না পড়তে হয় সে জন্য সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাদের।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত শীতের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে এবং দিনের বেলায় রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে রাত ও ভোরের দিকে শীত অনুভূত হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সামাজিকভাবে সচেতন মহল শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, শীত মৌসুমে খেটে খাওয়া মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর বরাদ্দ ছিলো ৩ হাজার কম্বল। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৫শ'র উপরে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন, “শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকৃত অসহায় কেউ বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা নজর রাখছি।”
রোদের উষ্ণতায় আপাতত স্বস্তি ফিরলেও শীত পুরোপুরি কাটেনি—এমন বাস্তবতায় শ্রমজীবী মানুষের জীবনসংগ্রাম চলছেই।
কেকে/ এমএস