মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
গানম্যানেই সমাধান খুঁজছে সরকার
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম আপডেট: ০৯.০১.২০২৬ ১২:২১ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যাদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার রাতেও রাজধানীর কদমতলীতে শাহাবুদ্দীন নামের এক সিলিন্ডার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডও থেমে নেই। গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের রাউজানে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এক যুবদল নেতা। সব মিলিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিন্তিত রাজনীতিকরাও। 

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই দাবি করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতয় দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিককে সরকারের পক্ষ থেকে গানম্যানও দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এ উদ্যোগে প্রশ্ন উঠেছে, গানম্যানে শীর্ষ রাজনীতিকরা নিরাপত্তা পেলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কী হবে? 

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায়। এ সময় দেশ ও জনগণের নিরাপত্তায় সরকারকে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে হবে। পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট শক্তিও নাশকতা চালাতে পারে। কদিন পর থেকেই শুরু হবে নির্বাচনি প্রচারণা। তাই এখন থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। গানম্যান নিয়োগের বিষয়ে তারা বলছেন, এতে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তায়হীনতায় তো সারা দেশের মানুষ। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তো সরকারের। সে বিষয়েও উদ্যোগ নিতে হবে। 

গত কয়েক দিনে শরীয়তপুর, যশোর ও নরসিংদীতে তিনজন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক যুবদলকর্মী। এর আগেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর কদমতলীর কুদার বাজার এলাকায় হত্যার শিকার হন শাহাবুদ্দিন (৪০) নামে এক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী। তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহাবুদ্দিন কদমতলী-জুরাইন এলাকায় বসবাস করতেন এবং ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করতেন। দুই মাস ধরে তিনি বাসার নিচে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা করছিলেন। 

এ বিষয়ে কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাফায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ 
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ দুই নেতাকে গানম্যান দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি মেহেরপুরের এক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীকেও গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছেÑ এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমকে (চরমোনাই পীর) গানম্যান দিচ্ছে সরকার। একই ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে গানম্যান পাচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ও দলটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক অনিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে গানম্যান পাচ্ছেন বিএনপির মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ অরুণ।

সূত্র জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এই তিন রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনার লিখিত অনুলিপি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও পাঠানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারা অতি দ্রুত গানম্যান পাবেন।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো শঙ্কা নেই। তবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির ছয় নেতা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। 
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু গানম্যান দিয়ে কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সরকার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, গানম্যান দেওয়া একটি সাময়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা মাত্র। প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ জোরদার করতে হবে, ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু একজন বা দুইজন গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না; বরং এতে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ধরনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়লে রাষ্ট্রের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল সীমিত থাকায় জনসাধারণের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করবে।

ব্যারিস্টার জাহিদ রহমান বলেন, গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তায়  প্রভাবশালী একটি শ্রেণি অতিরিক্ত সুবিধা পায়, আর সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব উপেক্ষিত থাকে।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গানম্যান   সমাধান   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close