গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার মাঠজুড়ে এখন হলুদের রাজত্ব। যতদূর চোখ যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতি নিজ হাতে বিছিয়ে দিয়েছে হলুদ রঙের গালিচা। সরিষার ফুলের রঙ আর মিষ্টি সুবাসে চারপাশ সেজেছে অপরূপ নান্দনিকতায়। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাপাসিয়ার সরিষা ক্ষেতগুলো।
গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন কৃষকরা।
কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এ বছর সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল হওয়ায় সরিষা কৃষকদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আয়নাল হক জানান, ধান কাটার পর স্বল্প সময়ে সরিষা চাষ করা যায় এবং উৎপাদন খরচও কম। ফলে একই জমি থেকে কম সময়ে ভালো লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বারিষাব ইউনিয়নের বারাব গ্রামের কৃষক মো. মাইন উদ্দিন জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে ঝুঁকি কম এবং বাজারে এর চাহিদা স্থিতিশীল। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তিনি বারি সরিষা-১৪ জাতের সরিষা ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন।
টোক ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামের কৃষক বসির উদ্দিন জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন এবং ভালো ফলনের আশা করছেন।
এ ছাড়া টোক ইউনিয়নের কৃষক সাদেক, মানসুর ও জাকির হোসেন জানান, স্বল্প সময়ে কম খরচে চাষ করা যায় বলে তারা এ বছর সরিষার আবাদ বাড়িয়েছেন এবং ফলন ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এ বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। গত বছরের তুলনায় জমির পরিমাণ বাড়িয়েছি। ফলন ভালো হলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
রায়েদ ইউনিয়নের কৃষক হাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাঘ মাসের শীতের ওপর সরিষার ফলন অনেকটাই নির্ভর করে। অতিরিক্ত কুয়াশা ক্ষতি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষেতের অবস্থা ভালো। আশা করছি সরিষা বিক্রি করে আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব।’
কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের কৃষক আমান উল্লাহ বলেন, ‘সরিষা চাষে সময় কম লাগে এবং খরচও তুলনামূলক কম। তাই এ বছর ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলে লাভবান হবো।’
কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন জানান, চলতি মৌসুমে কাপাসিয়া উপজেলায় মোট ৪৮৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে যে শীত ও কুয়াশা রয়েছে, তাতে সরিষার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
কেকে/ এমএস