লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ'র বিরুদ্ধে আ.লীগের নেতাদের সাথে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি সাংবাদিক ডেকে প্রেস ব্রিফিং করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযান পরিচালনার জন্য আমি আমার ফোর্স নিয়ে সিন্দুর্ণা এলাকায় যাই। পথিমধ্যে আ.লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়ির সামনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হয়। আমি সালাম বিনিময় করি। তিন চার মিনিট কথা বলে থানায় চলে আসি।’
কিন্তু তার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার গাড়ি আ.লীগ নেতার বাসার ভিতরে। তিনি অনেক সময় নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে লোকজনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উক্ত স্থান ত্যাগ করেন।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক নয়, একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিলো বলে স্বীকার করেছেন আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও এক পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন তাজু। তিনি একাধিক মামলার আসামি ও উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের নামে আ.লীগ নেতাদের এক গোপন বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে উপজেলা আ.লীগের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে যোগ দেয় হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হতে থাকে ফলে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
এ বিষয়ে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তারের দাবি, বৈঠক নয়, বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। সেই দাওয়াত অনুষ্ঠানে ওসি এসেছিলেন।
আর লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমান সেন জানায়, ‘ওই বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে গিয়ে ছিলেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।’
কেকে/বি