চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে মজুমদার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ঘিলাতলী সামাদিয়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে মজুমদার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদা আক্তার। তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও বৃত্তির নগদ অর্থ তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমেরিকা থেকে মোবাইল ফোনে বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মজুমদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নরসিংদী ইংলিশ ল্যাভের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল কবির সরকার।
বারাবরের মতো এবারও স্থানীয় এলাকার সন্তান ও আমেরিকা প্রবাসীদের সহযোগী সংগঠন মতলবের মজুমদার ফাউন্ডেশন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৫ লক্ষাধিক টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে। এছাড়াও কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করতে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
মজুমদার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রকল্পের সভাপতি ফয়েজুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঘিলাতলী সামাদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বাশার, নারায়ণপুর ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম, ধনারপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমিমুল এহসান মজুমদার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এড. কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ডা. মাহমুদা আক্তার বলেন, “ভবিষ্যতেও দরিদ্র ও মেধাবীদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমাদের মজুমদার ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ্। তোমাদের মতো মেধাবীরাই একদিন সমাজ ও রাষ্ট্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারবে; তোমাদের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে।”
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মজুমদার ফাউন্ডেশনের এই বৃত্তি প্রদান শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা, সাহস ও উৎসাহ জোগায়। বিগত বছরগুলোতে সমাজের অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করে সফলতা অর্জন করেছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে দ্বিগুণ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবে এবং নিজের, পরিবারের, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, মতলবের মজুমদার ফাউন্ডেশন দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে যে ব্যাপক আর্থিক সহযোগিতা করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে সহায়তা করতেন, তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হওয়াসহ অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের উপকার হতো।
সমাপনীতে প্রবাসী সদস্য, অসুস্থ ও প্রয়াত ফাউন্ডেশন সদস্যদের জন্য দোয়া করা হয়।
কেকে/এলএ