লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামী ও শ্বশুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা. ফারজানা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ২০ বছর বয়সী ফারজানা খাতুন জানান, ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. সোয়েবুর রহমান সোয়েবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এক বছরের একটি পুত্রসন্তান থাকা সত্ত্বেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাবার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গত বছরের ২৬ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদও নির্যাতনে অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ফয়জার রহমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনে চারজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত স্বামী মো. সোয়েবুর রহমান সোয়েব (মাদ্রাসা অফিস সহকারী) ও শ্বশুর আব্দুল কাদের (সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা) গত ৭ জানুয়ারি আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা খাতুন দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কেকে/ আরআই