মসলা এবং ভেষজ ওষুধ হিসেবে আদার ব্যবহার হওয়ায় এর দামও বেশ চড়া, তাই পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বাড়তি লাভের আশায় বান্দরবানে বস্তায় আদা চাষাবাদ শুরু করেছে চাষীরা। প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এই পদ্ধতিতে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম, কিন্তু লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকছে, অন্যদিকে কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় বাড়ছে জেলায় আদা চাষ।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে চাষ হয় মসলা জাতীয় ফসল আদা। খাড়া পাহাড়, পানির স্বল্পতা,মাটির ক্ষয়ের পরিমান বৃদ্ধি আর চাষ করে লাভের পরিমান খুব অল্প পেতো চাষীরা। তবে এখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছে অনেক চাষী। বস্তায় আদা চাষ করার ফলে এখন পরিশ্রম হচ্ছে কম,খরম হচ্ছে কম আর লাভের পরিমান বেড়েছে অনেকগুণ।
জেলা সদরের চেমী ডলু পাড়ার বাসিন্দা চিং সাবু মার্মা জানান, একসময় খাড়া পাহাড়ে আদা চাষ করতাম অনেক শ্রমিকের মজুরী ও সার লাগতো কিন্তু বর্ষায় সব মাটি সরে যেত ,সার ধুয়ে যেত আমাদের খরচের তুলনায় লাভ হতো কম।
তিনি আরেও জানান, এখন বস্তায় আদা চাষে শ্রম কম, অন্য বাগানের সাথে সাথী ফসল হিসেবে আদা চাষ করলাম আর ভালো লাভ হচ্ছে।
চেমী ডলু পাড়ার চাষী মং সুই অং মার্মা জানান, বান্দরবান কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের বিনামুল্যে আদার বীজ,বস্তা ও জৈরসারসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে আর সবাই এখন বস্তায় আদায় চাষ শুরু করেছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি অফিসের চেমী ব্লক এর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুতিমল তংচঙ্গ্যা জানান, বান্দরবান জেলা সদরের ঢলুপাড়া, লেমুঝিড়ি, রাজবিলা, চিম্বুক এলাকায় বস্তায় আদা চাষ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে লাগানো ২০গ্রামের একটি আদার বস্তা থেকে জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী ২৬সালে দেড় থেকে দুই কেজি আদা উত্তোলন সম্ভব। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের আদার বীজ,বস্তা ও জৈরসারসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান অব্যাহত থাকায় বান্দরবানে বস্তায় আদা চাষ দিদিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.রাকিবুল হাসান জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বান্দরবানে ৫৫হেক্টর জমিতে আদার চাষ হয়েছে ,আর যার মধ্যে পরীক্ষামুলকভাবে ৩হাজার বস্তায় আদার চাষ করেছে বিভিন্ন পাড়ার চাষীরা। বান্দরবানের উৎপাদিত আদা এখন মনপ্রতি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০০-৪০০০ টাকায়।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, বান্দরবানের চাষীদের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি বিভাগ বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আর বস্তায় আদা চাষ পুরোপুরি শুরু হলে বান্দরবানের চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধ হবে।
কেকে/ এমএস