রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী বাদল বিশ্বাস বিএনপিতে যোদ দিয়েছেন। তার যোগদানের সংবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধায় সাবেক সাংসদ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লাসহ দলের নেতাকর্মীরা
গোয়ালন্দ বাজারের আড়ৎপট্রি এলাকার বাসিন্দা বাদল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে মাছের আড়তের ব্যবসায় করে আসছিলেন। পাশাপাশি গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মন্ডলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তিনি তৎকালীন পৌরসভার মেয়রের সাথে যোগসাজশে মরা পদ্মার অত্যন্ত নিন্মমানের খাল পৌরসভার গারবেজ স্টেশনে ৯৯ শতাংশ জমি ৯৯ লক্ষ টাকা দাম ধরিয়ে বিক্রি করেন। যার বাজার মূল্য থেকে প্রায় ৫ গুণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ বাজারে রেলের জায়গা দখল করে নিয়ম বর্হিভূত তিনতলা ভবন গড়ে তুলেছেন।
আলোচনা-সমালোচনায় যোগাযোগ মাধ্যমে সরগরম রয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকে হারন-অর রশিদ নামে একজন লিখেছেন, ‘কড়া আদর্শিক বটে। আক্কাস মিয়ার কথা মনে পড়ে গেল। সে খালি দল পাল্টাইতো। তখন মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি শুধু দল বদলান কেন? উত্তরে বলেছিল আমি সরকারি দলের লোক। সরকার পাল্টে গেলে আমিও পাল্টে যাই। যাই হোক, সে এখন দোসর থেকে ওসুরে পরিনত হলো আর কি!’
জীবন শেখ নামে একজন লিখেছেন, ‘পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা না বলার অনুরোধ রইলো সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার।’
জুলহাস মোল্লা নামে একজন লিখেন, ‘বিএনপির কর্মী এত কম পড়েছে যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে হবে।’
বাদল বিশ্বাস জানান, বিএনপিকে ভালোবেসে এই দলে যোগদান করেছেন।
পৌরসভার জমি বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে নায্য মূল্যের কথা বলেন। এছাড়া রেলের জায়গা দখল করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা বিষয়ে বাদল বিশ্বাস বলেন, ‘রেলওয়ে কতৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে আমার ভবন ভেঙে দিতে পারে। আমি প্রতিবছর ট্যাক্স দিয়ে রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়েছি।’
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি দলের সাংগঠনিক কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। যোগদানের বিষয়টি যাদের মাধ্যমে হয়েছে তারা জানে।’
কেকে/এমএ