মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সময় বাড়ানোর আকুতি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পর্যটক সীমিতকরণ করে পর্যটনখাতে অপার সম্ভাবনা দেখছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ও সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ৩১ জানয়ারী বন্ধ না করে আরো কিছুদিন সময় বাড়িয়ে দিলে পর্যটনখাতে আরো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। আর তাই আরো কিছুদিন সময় বাড়ানোর আকুতি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সকলে। 

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত সেন্টমার্টিনে এখন পর্যটক যাতায়াত করছে। চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারী পর্যন্ত। সেন্টমার্টিনের স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হলে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় রোজগার বন্ধ হবে। 

এদিকে খোলা কাগজের প্রতিবেদক সেন্টমার্টিনে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায় নানান অনিয়ম। সরকারিভাবে প্লাষ্টিক পণ্য সেখানে নেওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও প্রতিদিন টেকনাফ থেকে ইজ্ঞিন চালিত বোটে করে প্রতিদিন কয়েক হাজার  পানির বোতল সেন্টমার্টিনে প্রবেশ করছে। যদিওবা পর্যটক কক্সবাজার থেকে উঠার সময় পানির বোতল নিয়ে যাচ্ছে না কিন্তু সেন্টমার্টিনে গিয়ে ঠিকই বোতলজাত পানি পাচ্ছে বিভিন্ন হোটেলে। এমনকি প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ হাজার পানির বোতল বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চিপসসহ বিভিন্ন প্লাষ্টিক পণ্য সামগ্রী সেখানে সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে। 

অন্যদিকে সমুদ্র বালিয়াড়িতে বাইক ভাড়া দেওয়া এখন নিয়মিত ব্যবসা হিসাবে দাড়িয়েছে বলে জানান সচেতন মহল। 

স্থানীয়রা বলছে, পর্যটক আসার কারণে এই সেন্টমার্টিনে প্রায় ৩শত টমটম চালক, নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় করা কটেজ ভাড়া দিয়ে চলে- এমন পরিবার প্রায় শতাধিক, শুটকি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যাচ্ছে। পর্যটক না থাকলে এরা বেকার হয়ে পড়বে। এর কারণে সেন্টমার্টিনবাসীর উপর বড় ধরণের একটি ধাক্কা আসতে পারে। 

স্থানীয় প্রবাল রিসোর্টের ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানায়, ‘দেশের সবচাইতে সুন্দর দ্বীপ এই সেন্টমার্টিন। দ্বীপটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসছে এই দ্বীপে, যার কারণে আমাদের মতো অনেক পরিবার এখন ভালভাবে জীবন ধারণ করতে পারছে। যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে এই সেন্টমার্টিনে অনেক বড় ধরণের প্রভাব পড়বে। সরকার পর্যটক সীমিত রেখে যদি সময়টা বাড়িয়ে দেন তবে স্থানীয়দের বাচাঁর সুযোগ থাকবে। এই দ্বীপে আগে জেলে ছিল এখন মায়ানমার সেনাবাহিনীর কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়াটা বিপদজনক। এখন যারা বিপদ হাতে নিয়ে মাছ ধরতে যায় তারা কোন না কোন বিপদে পড়ছে।’ 

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানায়, ‘বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এই সেন্টমার্টিন। এই দ্বীপে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোকের বসবাস। আর এই সব লোকের একমাত্র ব্যবসা হলো পর্যটনখাত। সরকার ২ মাসের জন্য পর্যটক আসা র্নিধারণ করার কারণে দ্বীপবাসীর জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর হিসাবে দাড়িয়েছে। পরিবেশ রক্ষা করে আরো কিছুদিন যদি দ্বীপে পর্যটক আসার ব্যবস্থা করা হয় তবে দ্বীপবাসীর জন্য বড় ধরনের উপকার হবে। অন্যথায় এই অনেক গরীব অসহায় দ্বীপবাসী অপরাধ জগতে পা বাড়াবে। এমন কি প্রায় ৩শত টমটম চালকের পরিবার না খেয়ে জীবনযাপন করবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আরেকটি মাস বাড়ালে সেন্টমার্টিনবাসী কিছু রোজগার করে বাকি সময়টুকু চলতে পারবে।’ 

সেন্টমার্টিনের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানায়, ‘পর্যটক না আসলে আর্থিক অভাব দেখা দিবে। পরিবারে অশান্তি দেখা দিবে। এমন পর্যায়ে গেলে সংসার ভেঙ্গে যেতে পারে। বিগত দিনে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তাই পর্যটক সীমিত করে যতদিন পর্যটক আসা সম্ভব ততদিন পর্যটক যেন আসতে পারে সে ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি।’ 

সেন্টমার্টিনে ঘুরতে আসা শোভন জানায়, ‘কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন আসার সময়টুকু অসাধারণ মুহুর্ত। সেন্টমার্টিনে নেমে ভালো লাগলো। সবচাইতে বড় কথা নিরাপত্তা নিয়ে কোন শংঙ্কা নেই। এখানকার মানুষ খুবই আন্তরিক। কিছুদিনের মধ্যে পর্যটক আসা বন্ধ হবে জানতে পারলাম। এখানকার অবস্থা দেখে বুঝতে পারলাম স্থানীয়রা পর্যটক নির্ভর জীবন ধারণ করে থাকে। যদি পর্যটক সীমিত করে আরো কিছুদিন চালু রাখা হয় তবে স্থানীয়রা কিছুটা আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকবে।’ 

পর্যটনখাতে ট্যুরিষ্ট গাইড সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানায়, ‘পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাতায়াত বন্ধ হলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। এই সেন্টমার্টিনে ব্যবসা করছে কক্সবাজারের স্থানীয় লক্ষাধিক মানুষ। তাদের আয় রোজগার বন্ধ হবে এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী কষ্টে পড়বে।’  

আগামী ৩১ জানুয়ারী সেন্টমার্টিনে পর্যটক বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়দের জন্য কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা আছে কিনা জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘স্থানীয়দের নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে। আশা করছি স্থানীয়রা তেমন সমস্যায় পড়বে না।’

কেকে/বি 


আরও সংবাদ   বিষয়:  সেন্টমার্টিন   পর্যটক   সময়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close