সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
খেত খামার
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল উৎপাদন, দামে হতাশ আমন চাষিরা
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন আমন ধান। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ ও ভালো উৎপাদন সত্ত্বেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে আমন মৌসুম ঘিরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খানসামার কৃষক সমাজ। 

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আমন ধান উঠতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে বেচাকেনা। কিন্তু বাজারে দামের টানাপোড়েনে কৃষকদের মুখে স্বস্তির ছাপ নেই। 

কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি পড়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচই উঠছে না। 
 
খানসামা উপজেলার অন্যতম বড় ধানের মোকাম পাকের হাটে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা ধানের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে বি আর–৫১ জাতের প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ২৫০ টাকা। গুটি স্বর্ণ জাতের ধান ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমে ২ হাজার ১০০ টাকায় এবং জিরা–৯০ জাতের ধান ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। 
 
দামের এই পতনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের মাজারডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে স্বর্ণ–৫ জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন মোটামুটি ভালো হলেও সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। এখন যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। 
 
একই ধরনের হতাশার কথা জানান পাকের হাটে ধান বিক্রি করতে আসা খামারপাড়া গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে ২৬ হাজার টাকার বেশি। ভালো ফলন পেয়েও কম দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছি।’ 
 
কৃষকরা আরও জানান, চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক জমির ধান পড়ে গেছে। এতে কাটামাড়াইয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগছে এবং খরচ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজা ও ক্ষতিগ্রস্ত ধান বাজারে আনতে বাধ্য হওয়ায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 
 
এদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত খানসামা উপজেলায় সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে মোট ১৪১ টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, এই সংগ্রহের পরিমাণ খুবই সীমিত হওয়ায় বাজারে দামের ওপর এর তেমন প্রভাব পড়ছে না। 
 
ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান কেনার গতি কম থাকায় বাজারে চাহিদা কম রয়েছে। ফলে ধানের দাম নিম্নমুখী হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকলেও সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম বাড়লে সামনে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছি।’ 

তবে কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে দ্রুত ধান কেনা না হলে ভালো ফলনের এই মৌসুমও তাদের জন্য স্বস্তির বদলে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 
 
কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close