পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো মাছের মেলাটি জমে ওঠেছে। গত সোমবার রাত থেকে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর তীরে এই মেলাটি শুরু হয়। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মেলাটি চলবে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২০০ বছর ধরে শেরপুর কুশিয়ারা নদীর পাড়ে এই মেলা হচ্ছে। পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছরই বিভিন্ন হাওর ও কুশিয়ারা নদী থেকে মাছ শিকার করে মৎসজীবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ নিয়ে মেলায় আসেন ব্যবসায়ীরা।
এ বছর যেন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের উপস্থিতি এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে এনে দিয়েছে জাতীয় স্বীকৃতির ছোঁয়া।
মেলায় সব সময় মানুষের আকর্ষণ থাকে বড় মাছের প্রতি। বাঘাড়, বোয়াল, আইড়, চিতল, কাতল, রুই, সিলভার কার্পসহ নানান প্রজাতির বড় মাছ মেলায় বেশি পাওয়া যায়। এবারের মেলায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দাম চাওয়া হয়েছে একটি বাঘাড়ের। বিক্রেতা জানান এই মাছের ওজন ৮০ থেকে ৯০কেজি।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী সাহান আহমেদ বলেন, ‘এটি দেশের মধ্যে অন্যতম একটি মাছের মেলা। প্রতিবছর এখানে আসি। আমরা মেলায় পাইকারি মাছ বিক্রি করি। আমাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন।’
মৎসজীবি বকুল পাল বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করি। এই মেলায় প্রতিবছর আসি। এখান থেকে পাইকারিভাবে মাছ কিনে আমরা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করি।’
মেলায় ঘুরতে আসা এমরান হোসেন, আশিকুর রহমান, তমাল কান্তি, তপন চাষা বলেন, ‘আমরা শখের বসে এই মেলায় আসি। এখানে সব ধরনের বড় মাছ দেখা যায়। দরদামে পোষালে মাছ কিনে নিয়ে যাব।’
হাওর-বিল আর নদী নির্ভর এই জনপদের প্রাকৃতিক মাছের বৈচিত্র্য যে কেবল দেশীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, তা শেরপুরের মাছের মেলাই আবার প্রমাণ করলো। বহু পুরোনো এই মাছের মেলা শুধু বাণিজ্যের স্থান নয়, এটি অঞ্চলের সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি। দেশি প্রজাতির রুই, কাতল, বোয়াল, আইড়, শোল কিংবা নানা প্রজাতির ছোট মাছ—সবকিছুই এখানে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিদেশি ক্রেতাদের আগমন প্রমাণ করে, নিরাপদ ও মানসম্মত দেশীয় মাছের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারেও আগ্রহ বাড়ছে।
মাছের মেলায় খুচরা ও পাইকারি উভয়ভাবেই মাছ বেচাকেনা চলে। মেলায় মাছের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, শৌখিন জিনিস, শিশুদের খেলনার সামগ্রীর পসরাও সাজিয়ে বসেছেন দোকানদারেরা।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কেকে/ এমএস