চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত চবির ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীম।
দুদকের অভিযানের বিষয়ে সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, “১২ নাম্বার সিরিয়ালের পর ১৮ নাম্বার সিরিয়াল হতেই পারে। আমরা দেখবো যে তিনি যোগ্য কি না। চবিতে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগগুলো মিথ্যা।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), প্রাণিবিদ্যা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টসহ (এইচআরএম) মোট ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং ৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন দিয়েছে সিন্ডিকেট। কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করে। এ নীতিমালার আওতায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ১৮ জন এবং তার আগের ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সভায় ৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগ পান। অর্থাৎ, গত দুই সিন্ডিকেট সভায় ৫৬ জনসহ বর্তমান প্রশাসনের আমলে মোট ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “যারা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করবে, ভাইভা-প্রেজেন্টেশনে ভালো করবে—তাদেরকেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। আমার মেয়ে যে পরীক্ষা দিচ্ছে এটা উপাচার্য মহোদয়ও জানতেন না।”
এ বিষয়ে দুদকের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
কেকে/ আরআই