হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আলোচিত ময়না মিয়া (মেম্বার) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মন্নান মিয়াকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ যাত্রাপাশা মহল্লায় অভিযান চালিয়ে মন্নান মিয়াকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত আসামি হওয়ায় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে বানিয়াচং থানায় সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, মন্নান মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৫ সালে একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর হামলা, হ্যান্ডকাপ ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানায় সংঘটিত লুটপাটের ঘটনায় মালামাল নিজ বাড়িতে নেওয়া এবং অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন তিনি আইনের কঠোরতার বাইরে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় বারবার পার পেয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমদ বলেন, “সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আটক হওয়া মন্নান মিয়াকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে সংঘটিত ৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা অভিযোগে মন্নান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালে বানিয়াচং উপজেলা সদরের দক্ষিণ যাত্রাপাশা মহল্লার টানা চারবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ময়না মিয়া (মেম্বার) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিও তিনি। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পলাতক অবস্থায় শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।
কেকে/ আরআই