ঢাকার কেরানীগঞ্জে কথিত গৃহ শিক্ষিকার বাসা থেকে মা-মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পাঁচতলা ভবনের দুইতলার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রোকেয়ার (৩২) এবং বাথরুমের ফলস ছাদ থেকে মেয়ে ফাতেমার (১৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি ফাতেমার গৃহ শিক্ষিকা মীমের বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল থেকে কালিন্দীর মুসলিমবাগ ওই ভাড়া বাসা থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হয়। প্রথমে এলাকাবাসী ময়লার দুর্গন্ধ ভাবলে ধীরে ধীরে গন্ধ প্রকট হতে থাকে। পরে গন্ধের উৎস খুজতে থাকলে মীমের ফ্ল্যাট থেকে বের হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয় এলাকাবাসী। এ সময় ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বললে, ভিতরের বাসিন্দারা দরজা না খুললে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে রুমের দরজা ভেঙে বক্স খাটের ভেতর থেকে রোকেয়ার লাশ এবং বাথরুমের ফলস ছাদের ওপর থেকে মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত রোকেয়ার ভাই জাহিদ জানায়, “গত ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) আমার বোন ও ভাগ্নী নিখোঁজ হলে আমরা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জিডি করি। আমাদের শুরু থেকেই গৃহ শিক্ষিকাকে সন্দেহ হচ্ছিল। আমি পুলিশকে জানিয়েছি কয়েকবার—পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। আমার ভাগ্নীর গলায় স্বর্নের চেইন ছিল, বোনের গলায়ও চেইন ছিল। চেইন নেয়ার জন্যই হয়তো হত্যা করেছে মীম।”
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম সাইফুল আলম জানান, “এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষিকা মীম, মীমের স্বামী হুমায়ন, বড় বোন নুরজাহান ও ফাতেমার বান্ধবী মাহীকে পুলিশে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।”
কেকে/এজে