ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী নেতা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই মার্চে ঢল নামে ছাত্র-জনতার। কয়েকটি পিকআপ ও শতাধিক মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে মিছিলটি সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিকেলে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে এসে সমাবেশে রূপ নেয়।
মার্চ ফর ইনসাফে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘খুনি ধর, জেলে ভর’, ‘ইনসাফ চাই, বিচার চাই’, ‘রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে’—এমন বজ্রকণ্ঠ স্লোগানে জনতার ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরো পথজুড়ে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলন ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন সাহসী নেতৃত্ব ও আপসহীন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়া রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার জন্য চরম লজ্জাজনক। অবিলম্বে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্র-জনতা ঘরে ফিরবে না। প্রয়োজনে আন্দোলন জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করা হবে।”
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মাসুদুর রাহমান আদনান, সদস্য নকিব নজরুল, সোহেল বেপারী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক অভি চৌধুরী, ছাত্র নেতা আশিকুজ্জামান আশিক, আশরাফুল ইসলাম নাদিম, মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একটি অপারেশন শেষে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। দুদিন চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরদিন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় দেশে আনা হয় হাদির মরদেহ। রাখা হয় হাসপাতালের হিমঘরে। শনিবার সংসদ ভবনের সামনে তার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বিকেলে তাকে শাহবাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
কেকে/এলএ