ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘দিনদুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কী করে’—এমন নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ৩৫ দিন পার হয়ে গেলেও একটি কালো শক্তির কারণে বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। কোন শক্তির কারণে এ হত্যাকাণ্ড আড়াল করা হচ্ছে, তা আমরা জানতে চাই। চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে আমাদের আশা ছিল ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এতদিন পার হলেও আমরা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখিনি।”
তারা আরও বলেন, “শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা আমাদের স্মৃতিপট থেকে মুছে যেতে দেব না। তার আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনাকে ভয় পেয়েই আধিপত্যবাদীরা তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। আমরা হাদি ভাইয়ের উত্তরসূরি, আমরা তার হত্যার বিচার চাই।”
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “যে মানুষটি আমাদের বিপ্লবের জন্য জীবন দিয়েছেন, তার হত্যার বিচারের দাবিতে আজও আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। কোন অদৃশ্য শক্তির ভয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা আমরা জানতে চাই। প্রতিবছর র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য বিপুল বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা এ ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।”
তারা বলেন, “ডিজিএফআই কী ভূমিকা পালন করছে, সেটিও আমরা জানতে চাই। আমরা মনে করছি, সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আমরা এই ইন্টেরিম সরকারের প্রতিটি উপদেষ্টার স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করব। অবিলম্বে হাদি হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু শুটার ফয়সাল নয়, এই হত্যার আদেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
কেকে/এলএ