কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আবছারকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি মামলায় অর্থদণ্ড আর অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজাও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে।
দুদকের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি জানান, তিনটি মামলার প্রতিটিতে এক বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রতিটি মামলায় আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই সাজাগুলো আলাদাভাবে কার্যকর হবে। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল আবছার বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতির অনুদান হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার উন্নয়ন কাজে ১৫ লাখ ৭ হাজার ৫২০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগে প্রথম মামলাটি করা হয়। ওই মামলায় ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত সাজা নির্ধারণ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেয়র থাকাকালে উন্নয়ন কাজের নামে ৯০টি চেকের মাধ্যমে ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এ অভিযোগে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড, ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের রায় দেন।
তৃতীয় মামলায় ১৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড, সমপরিমাণ অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ছয় মাসের অতিরিক্ত সাজা প্রদান করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায়।
রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আলোচিত এই মামলাগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
কেকে/এলএ