মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
দেশজুড়ে
আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোটে অবশ্যই সীল দেবেন : রিজওয়ানা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “যদি পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন, যদি সংস্কারের পক্ষে থাকেন, যদি সত্যিকার অর্থে জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন চান এবং জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক নেতৃত্ব চান তাহলে আপনারা ‘হ্যাঁ’ ভোটে অবশ্যই সীল দেবেন।”

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি শিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “পরির্বতন যদি আনতে হয়, তাহলে আমাদের এই শাসন ব্যবস্থা, একই আইন কানুন রেখে, এই মানুষ রেখে পরিবর্তন আসবে না। কি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা যায় সেটার জন্য সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন করেছে। এর মধ্য থেকে ছয়টা সংস্কার কমিশন যারা সরাসরি ভোটের সাথে জড়িত, ক্ষমতার ভারসাম্যের সাথে জড়িত, জবাবদিহিতার সাথে জড়িত তাদের যে সুপারিশগুলো ছিল সেই সুপারিশগুলো নিয়ে দিনের পর দিন সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে মিটিং করেছে। আমরা তো চলে যাবো, শেষপর্যন্ত দেশের পরিবর্তনটা টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনীতিবিদদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। ওইখান থেকে যেসমস্ত বিষয় আমরা মনে করেছি ক্ষমতার ভারসাম্য আসতে সহায়তা করবে, যেসমস্ত বিষয় আমরা মনে করেছি সরকারকে জবাবদিহি করবে, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে সাহায্য করবে, সেই সমস্ত মোট ১২টা বিষয় নিয়ে আমরা চারটা প্রশ্ন ওই গোলাপী কাগজে আপনাদেরকে দেব। আপনারা হ্যাঁও বলতে পারেন নাও বলতে পারেন।”

তিনি বলেন, “যত বাধা আসুক না কেন ভোট আমরা দিতে যাবো। সরকার প্রস্তুত আছে সকল বাধা মোকাবিলা করার। সরকারের সবচাইতে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ এবং ভোটার যারা। আপনারা প্রস্তুত থাকবেন যে, আমরা ভোট দিতে যাবো। ভোটের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ২১ তারিখে প্রতীক বরাদ্দ হবে, ২২ তারিখের পর থেকে প্রচারণা শুরু হবে। আপনারা এখন থেকে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন আপনারা কাকে ভোট দেবেন। অপশাসনের বিরুদ্ধে যদি আমরা মুক্তি চাই তাহলে আমাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। গোলাপী কাগজটা হাতে নিয়ে ভোট দিতে হবে এবং আমরা যাতে ভোট দিতে না পারি এজন্য অনেক রকমের ভয়ভীতি দেখানো হবে। একটা শঙ্কা সৃষ্টি করা হবে।”

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষিত তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত জুলাই আগস্টে যে আন্দোলন হলো এই আন্দোলন শুধু শুধু হয় নাই। ৫৩ বৎসর যাবৎ দেশের মানুষ সম্মানিত বোধ করে নাই। দেশের মানুষের একটা বড় অংশ বঞ্চিত বোধ করেছে, তারা সুশাসনের অভাব বোধ করেছে। তারা মনে করেছে তাদের নেতারা তাদের কাছে জবাব দেয় না। তারা মনে করে প্রশাসনের কাছে গেলে তারা ভালো ব্যবহার পায় না। তারা মনে করেছে সমাজের একটা গোষ্ঠি সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যায়। অন্যরা সারাদিন হারভাঙ্গা খাটুনি খাটে কিন্তু তারা কোন রাষ্ট্রীয় সরকাররি সুরক্ষা পায় না। গত ১৬ বছরে মানুষকে এমনকি ভোটের অধিকারটাও দেওয়া হইল না, তখন এই ক্ষোভটা—এই না পাওয়াটা আরও বেশি দানা বাধল।”

তিনি আরও বলেন, “আজকে আপনাদের সামনে এসেছি, সে উদ্দেশ্যটা হলো ১২ তারিখে যে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে সে নির্বাচনে আপনারা যাতে নির্ভয়ে দেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন আপনাদেরকে সেজন্য আহ্বান জানাতে এবং আশ্বাস দিতে। আরেকটা কারণ নিয়ে এসেছি সেটা হচ্ছে এইবারের ভোটের দিনে ভোট দেয়ার লাগবে দুইটা। একটা হচ্ছে সাধারণ ভোট। আপনি ভোট দিবেন—আপনি কাকে নেতা নির্বাচন করবেন, কে আপনার হয়ে আগামী ৫ বছর সংসদে কথা বলবে। সেইখানে আপনারা কাকে ভোট দিবেন না দিবেন সেটা সম্পূর্ণই আপনাদের ব্যাপার। আমাদের শুধু একটাই আহ্বান থাকবে যে, আপনারা বুঝে শুনে ভোট দেবেন যাতে ভোট দেওয়ার পর বলতে না হয় অমুক নেতা ভলো না। ভোট দেওয়ার সময় চিন্তা করতে হবে আমার এই নেতা আমার স্বার্থে কাজ করবে না নিজের স্বার্থে কাজ করবে। সেটা চিন্তা করে দেশের স্বার্থে সমাজের মঙ্গলের স্বার্থে যাকে আপনারা উপযুক্ত মনে করেন তাকে ভোট দেবেন।”

গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা বিচার চাই, আমরা ইনসাফ চাই, আমরা এমন একটা দেশ চাই যে দেশে সভ্যতা থাকবে, সত্যিকার অর্থে বিচার হবে, কেউ প্রভাবশালী বলে বিচার কিনে নিয়ে চলে যাবে, কেউ রাজনৈতিক নেতার ফোনে বিচার বদলায় দিবে—এসব যদি আমরা না চাই তাহলে আমরা যেন অবশ্যই গোলাপী ব্যালটবক্সে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবু জাফর, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, ছাত্র প্রতিনিধি আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তর প্রমুখ।

এর আগে, বিকেলে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে এক বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা অডিটেরিয়ামে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ‘হ্যাঁ’ ভোট   রিজওয়ানা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close