জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।
সর্বশেষ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোরে জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু করিচার ব্রিজের উত্তর পাশে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোরে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি চেকপোস্টের সামনে এলে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল ও একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে আরোহীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বস্তা তল্লাশি করে ভারতীয় চারটি ক্যামো রঙের নতুন এয়ারগান ও ছয়টি কালো রঙের নতুন এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি পুরাতন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে রোববার রাতে উপজেলার পানিছড়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পয়েন্ট-২২ রাইফেল উদ্ধার করে।
এছাড়াও মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি টিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে র্যাব। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর। বিস্ফোরকগুলোর গায়ে ভারতীয় ভাষায় ‘এস.বি.এল এনার্জি লিমিটেড’ লেখা ছিল।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়ে সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় একের পর এক অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় হরিপুরসহ গোটা জৈন্তাপুর এলাকায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কেকে/ আরআই