পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক অপরিচিত নারীর কোলে ২৩ দিন বয়সী একটি শিশু রেখে চিরকুট লিখে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে চিরকুটে লেখা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান বের করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে এ ঘটনাটি ঘটে। যার কোলে শিশুটিকে রেখে যাওয়া হয়েছিল, তিনি মোছা. মিষ্টি আক্তার। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর গ্রামের মো. সাগর হোসেনের স্ত্রী।
জানা যায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিষ্টি আক্তার তার জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষারত অবস্থায় এক অপরিচিত নারী তার কাছে এসে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে কোলে থাকা ২৩ দিন বয়সী শিশুটিকে কিছু সময়ের জন্য ধরে রাখতে অনুরোধ করেন। মানবিক বিবেচনায় শিশুটিকে কোলে নেন মিষ্টি আক্তার। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই নারী ফিরে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে শিশুটির গায়ে জড়ানো কাপড়ের ভেতর একটি সাদা কাগজে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল—“আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজত রাখবেন। বাচ্চাটির জন্ম ১ জানুয়ারি।”
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মিষ্টি আক্তার শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসানের কক্ষে গিয়ে পুরো ঘটনা জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঈশ্বরদী থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, চিরকুটে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নম্বরটি আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তির। তাকে ফোন করলে তিনি হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিশুটি রেখে যাওয়া ওই নারীকে শনাক্ত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের ইমারুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তা খাতুন।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুক্তা খাতুনের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। শিশুটির নাম রাখা হয় তুবা খাতুন। কী কারণে তিনি চিরকুট লিখে এভাবে শিশুটিকে রেখে গিয়েছিলেন—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
সবশেষে প্রয়োজনীয় পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কেকে/ আরআই