জানুয়ারি মাস শীতকালের শুস্ক মৌসুম হিসাবে পরিচিত। এই সময়ে বিশেষ করে কোনো ধরণের চারা লাগানো হলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চারা রোপণ করলে তা ভালভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ আছে। কারণ বাংলাদেশের পরিবেশ প্রকৃতি অনুযায়ী বর্ষা মৌসুমে চারা লাগানো হয়। এবং সরকারিভাবে কোনো চারা লাগানোর বাজেট আসলে তা বর্ষা মৌসুমে কাজ শেষ করেন বনবিভাগ।
কিন্তু এই বছর একটু ভিন্নভাবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ পালনের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় থেকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
তারুন্যের উৎসব ২০২৫ পালনের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দেশব্যাপী ৫হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে ৫০ টি করে মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার বিভিন্ন ধরণে গাছের চারা রোপনের অনুষ্ঠান পালিত হতে যাচ্ছে বলে বন বিভাগের একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সারাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন বলে জানা যায়।
সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশ ব্যাপী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার হতো যদি সঠিক সময়ে সেটি বাস্তবায়ন করা হতো। দেশের শিক্ষিত/ অশিক্ষিত, শহুরে কিংবা গ্রামের সকল মানুষই জানে বৃষ্টি তথা বছরের মে- জুলাই মাসে গাছের চারা রোপন করতে হয় যাতে চারা গুলো টেকসই হয়ে বৃক্ষে পরিনত হয় এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ বনজ,ফলজ চাহিদা পুরন হয়।
ডশক্ষা কর্মকর্তাদেও সাথে কথা বলে জানা গেছে এখন চারা রোপণ করলে কোনভাবেই চারা টিকিয়ে রাখা যাবে না। কারণ এখন শুকনো মৌসুম যদি এখন উদ্বোধন করে বর্ষা মৌসুমে চারা লাগানো হয় তবে চারা গুলো বড় হওয়া সুযোগ হবে।
একটি কারিগরি ডিপার্টমেন্ট হয়ে খোদ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনেই শুস্ক মৌসুমে অর্থাৎ চলতি জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে বৃক্ষরোপনের এমন কর্মসুচিকে দেশের একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন শুধুমাত্র সরকারি অর্থ অপচয় হিসেবেই দেখছে না বরং এই কর্মসূচিকে তারা দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার চারা গাছের নিশ্চিত মৃত্যু হিসেবেই দেখছেন সেই সাথে চারা ক্রয় ও রোপন বাবদ ৯০ লক্ষ টাকার অপচয় হিসেবে দাবি করছেন।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে আরো চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়, বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে রেঞ্জ ও বিট পর্যায়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপনের এই কর্মসূচিকে ঘিরে চলছে অসন্তোষ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও বা সরকারের কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করবে তবে কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সন্ধিহান বলে মনে করছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, জানুয়ারি মাসে এই কর্মসূচি পালনের জন্য তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে হাস্যরসের পাত্র হচ্ছেন শুস্ক মৌসুমে বৃক্ষের চারা রোপনের কথা বলায়।
অন্যদিকে এই মৌসুমে চারা রোপন করলে তা বাঁচানো সম্ভব হবে না। ফলে ২/১ মাস পরে বন বিভাগের উর্ধতন কতৃপক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে চারার অস্তিত্ব না পেলে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা,কর্মচারীগনকে সরকারি অর্থ অপচয়ের দায়ে সাসপেন্ড করে তাদের তথাকথিত দায়িত্ব পালনে পিছপা হবেন না বলে বিভিন্ন বিট ও রেঞ্জ সুত্রে জানা যায়।
অথচ এই শুস্ক মৌসুমে সারাদেশ ব্যাপী ৫হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ টি করে বৃক্ষের চারা রোপণের উচ্চপর্যায়ের হঠকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই বিষয়টি সু বিবেচনা করে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আগামী জুন মাসে চারা রোপনের সময় পুনঃনির্ধারনের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।
কেকে/ এমএস